খাবারের পর তন্দ্রাভাব কেন হয়? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
খাবারের পর তন্দ্রাভাব বা ঘুম ঘুম ভাবকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স' বলা হয়। সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই তন্দ্রাভাব বেশি দেখা দেয়। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, চিনি এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

খাবারের পর অনেকেরই তন্দ্রাভাব বা ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে 'পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স' বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই বিষয়টি খুবই পরিচিত হলেও এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তন্দ্রাভাবের বিষয়টি সবসময় একই সময়ে আসে না। সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই তন্দ্রাভাব বেশি দেখা যায়। এই সময়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ নানা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে ক্লান্তি বা ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।
আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস এই তন্দ্রাভাবের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি বেশি থাকা খাবারে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়া ও কমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। শর্করার মাত্রা এভাবে ওঠানামা করার ফলে শরীরে হঠাৎ করে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, যা ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করে।
এছাড়াও খাবারের উপাদানের মধ্যে চর্বির পরিমাণও এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে ভারী খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগার কারণেও শরীরে এক ধরনের ক্লান্তি ভর করতে পারে।
স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রাবিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়ে থাকে। ইত্তেফাক, হিন্দুস্তান টাইমস এবং চ্যানেল ২৪ এর মতো গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে খাবারের পর এমন শারীরিক অবস্থা সৃষ্টির বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
ডা. আইলিন ক্যান্ডে এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তার মতে, আমরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছি এবং তা কীভাবে আমাদের শরীরে পরিপাক হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করেই এই ধরনের তন্দ্রাভাব বা ঘুমের ভাব তৈরি হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, খাবার গ্রহণের পর রক্তে শর্করার তারতম্য এবং ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার হজমের প্রক্রিয়া মিলেই এই 'পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স' বা তন্দ্রাভাবের পরিস্থিতি তৈরি করে থাকে। সচেতন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।








