ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা দ্বিগুণ হয়ে ৩০ শতাংশে
কিং'স ফান্ডের এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার হার ১৯৯৩ সালের ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় বিগত তিন দশকে ১৪টি পৃথক কৌশল নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট হয়নি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার হারে এক তীব্র উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। কিং'স ফান্ডের নতুন এক বিশ্লেಷণে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে যেখানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ১৫ শতাংশ মানুষ স্থূলতার শিকার ছিলেন, ২০২৪ সালে সেই হার বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ রেকর্ড ৩০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ১৯৯৩ সালের হার যদি বর্তমান সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকত, তবে আজ প্রায় ৭০ লাখ কম প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে স্থূলতার সাথে বসবাস করতে হতো। বর্তমানে ইংল্যান্ডে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থূল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
এই ক্রমবর্ধমান সংকটের পেছনে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিং'স ফান্ডের ডেভ বাক এই পরিস্থিতিকে পরিষ্কারভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিগত তিন দশকে এই স্থূলতা সংকট মোকাবেলায় ১৪টি পৃথক কৌশল চালু করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেবল কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার মতে, এই বিশ্লেষণটি স্থূলতার এই টাইমবোম মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার বিশাল রূপটি স্পষ্ট করে তোলে।
ডেভ বাক আরও মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে অতিরিক্ত সেবন করা কিংবা এমনভাবে খাবার গ্রহণ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে যা আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে স্থূলতার হার সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে এই বয়সী তরুণদের মাত্র ৬ শতাংশ স্থূল বা অতিমাত্রায় স্থূল ছিলেন, যা ২০২৪ সালে এসে ১৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ইংল্যান্ডে ১০ লাখ তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থূলতার শিকার হয়ে বসবাস করছেন, যা হার বৃদ্ধি না পাওয়ার তুলনামূলক হিসাবের চেয়ে ৭ লাখ বেশি।
জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই স্থূলতার প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে যুক্তরাজ্য অর্থনীতির প্রতি বছর প্রায় ১২৬ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়। পাশাপাশি, এনএইচএস-এর বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১২ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয় শুধুমাত্র স্থূলতার পেছনে। এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন সময় নীতিনির্ধারক ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন টনি ব্লেয়ার, গর্ডন ব্রাউন, ডেভিড ক্যামেরন, তেরেসা মে এবং বরিস জনসন।
সংকট মোকাবেলায় অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যজুড়ে উচ্চ চিনাযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর করারোপ বা লেভি চালু করা হয়েছিল। এছাড়া চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে লেবার সরকার টেলিভিশনে রাত ৯টার আগে এবং অনলাইনে যেকোনো সময়ে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এদিকে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম প্রযোজ্য রয়েছে। এনএইচএস-এ ওয়েগোভি (Wegovy) পাওয়ার জন্য রোগীর অন্তত ৩৫ বা তার বেশি বিএমআই (BMI) থাকতে হয় এবং এর সাথে ওজন সম্পর্কিত কমপক্ষে একটি পূর্ব-বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকতে হয়। তবে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসার প্রফেসর স্যার ক্রিস হুইটি সতর্ক করে বলেছেন, স্থূলতার একমাত্র সমাধান যদি মানুষকে আজীবন ওষুধ খাইয়ে যাওয়া হয়, তবে তা হবে একটি 'সামাজিক ব্যর্থতা'।








