রাজশাহীতে সার গুদাম পরিদর্শনের পর কৃষি নিয়ে নতুন বক্তব্য
রাজশাহীতে সার গুদামগুলো পরিদর্শন করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এবং সেখানে দুই হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় এক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে কৃষিবান্ধব সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী আমিন উর রশিদ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চলون ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট রাজশাহী এবং মুন্সীগঞ্জ—এই দুটি এলাকায় কৃষি খাত ও সার সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে সারের মজুত পরিস্থিতি সরজমine দেখতে বিভিন্ন সার গুদাম পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার কাজী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ে সারের কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের মাঝে সঠিক সময়ে সার বিতরণ তদারকি করা।
পরিদর্শনকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহীতে দুই হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিভিন্ন গুদামে মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের বাড়তি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সার বিতরণের পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের সার্বিক কৃষি কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। কৃষকদের অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো সার পাওয়ার কারণে এ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।
এদিকে অন্য একটি ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে একটি প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তাঁর এই বক্তব্যে দেশের কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের বর্তমান বিভিন্ন নীতি এবং সফলতার চিত্র উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এদেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ড চালু হলে আপনি কত জমিতে আলু রোপণ করেছেন, তা সরকারের রেকর্ডে থাকবে এবং আপনার কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন সেটিও সরকারের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে।
সারের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও বলেন, একটি দল সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। যে পরিমাণ কোটা বা সারের বরাদ্দ দেওয়া আছে, তারা সেটাও ঠিকমতো ওঠাচ্ছে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তারা কোনোভাবেই বাজারে সংকট তৈরি করতে পারবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আমাদের ঈমান ঠিক আছে, আমাদের গোডাউন ঠিক আছে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, এই সরকার মূলত কৃষকের সরকার এবং বাজারে এ মুহূর্তে যত সারের চাহিদা রয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সার গোডাউনে মজুত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় মো. ইউসুফ আলী, মোস্তফা কামাল হোসেন, মো. ইবনুল আবেদীন, এমএ মান্নান, মেসার্স মোসলেম মোল্লা, মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর কার্যক্রমও এই সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।








