মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরীর তীরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পারে সরকারি জায়গা দখল করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৪ সালে বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিলেও আবারও সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১২ · ১ মিনিট পড়া
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পারে সরকারি জায়গা দখল করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণকাজ চলছে। মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন অবকাঠামো দাঁড় করানোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে বিআইডব্লিউটিএ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দিয়েছিল। সরকারের সেই উচ্ছেদ অভিযانের পর কিছুদিন এলাকাটি দখলমুক্ত থাকলেও বর্তমানে আবারও সেখানে নতুন করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নদীর পারের এই বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, লঞ্চঘাটে নদীর পারে আগেও স্থাপনা ছিল। সরকার সেগুলো ভেঙে দিয়েছে। এখন আবার এখানে নতুন করে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কে কী বলবে, কারও সাহস নেই।
অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির আবদুল জব্বার এই বিষয়ে জানান, এখানে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। এখন কারা দোকান নির্মাণ করছে, তা জানি না।
এদিকে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পুরো পরিস্থিতির নেপথ্য বা তদারকিতে মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির নামও আলোচিত হচ্ছে, যিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সরকারি জমিতে এই অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শেখ এনামুল হক সংবাদমাধ্যম সমকালকে বলেন, যেখানে স্থাপনা হচ্ছে, ওই জায়গা বিআইডব্লিউটিএর। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জায়গা পড়েছে। সেখানে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
ধলেশ্বরী নদীর পারের এই সরকারি জমি রক্ষায় এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।
তথ্যসূত্র: সমকাল
আপনার প্রতিক্রিয়া