সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদীর সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতু নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই সেতুর নির্মাণকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৩০ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে হিসাবে ২০২০ সালের মে মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মূল সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।
তবে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নির্ধারিত মেয়াদের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। অথচ এই সেতুটি নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ মিটার। নদীর দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এলাকার আর্থসামাজিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে যাদুকাটা নদীর ওপর এই দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের কাজটি পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। তাদের পাশাপাশি এই প্রকল্পের সাথে বাতেল ইঞ্জিনিয়ারিং, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলজিইডি সংশ্লিষ্ট রয়েছে। এছাড়া এই পুরো বিষয়ে সমকাল সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং এতে মাসুক মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম যুক্ত রয়েছেন।
সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। তাদের মতে, ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি চালু হলে তাহিরপুর উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু প্রায় ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও শেষ না হওয়ায় জনগণের দীর্ঘমোদী ভোগান্তি রয়েই গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় ২০২০ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা রক্ষা করা যায়নি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই কাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়।








