মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে অনিশ্চয়তা
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণকাজে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১৮ কোটি ১ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ থাকলেও প্রস্তাবিত জায়গায় পুরোনো ভবন অপসারণ না করায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণকাজ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরুর পর ৫৪০ দিনের মধ্যে তা শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও মাঠপরয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে নির্ধারিত ও প্রস্তাবিত জায়গায় থাকা পুরোনো স্থাপনা নিয়ে। জানা গেছে, প্রস্তাবিত জায়গায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-র পুরোনো ভবনটি এখনও অপসারণ করা হয়নি। পুরোনো ভবনটি অক্ষত থাকায় ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য হাত দিতে পারছে না।
এই জটিলতা কেবল মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রস্তাবিত জায়গায় বিআরডিবির পুরোনো ভবন অপসারণ না করার এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি মারপ্যাঁচে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন আবেদন করা হয়েছে।
হাইকোর্টে রিট পিটিশন আবেদনটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। তাঁর এই আইনি পদক্ষেপের কারণে পুরো নির্মাণকাজটি এখন আরও বেশি আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে এলজিইডি, প্রথম আলো, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় এবং সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ)-র নাম উঠে এসেছে।
এছাড়া এই প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন আফরোজা খানম, মো. আওলাদ হোসেন, মো. আলী আজম, সরদার মো. কেরামত আলী, মৌসুমী নাসরিন এবং নাজমুন আরা সুলতানা। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানটিতে দেড় বিঘা জমি রয়েছে, যেখানে এই নতুন কমপ্লেক্স ভবনটি গড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার এই জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজ এখন পুরোপুরি থমকে আছে।








