কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কাজ আট সপ্তাহ বন্ধের নির্দেশ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের কাজ আট সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত অবমাননার মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৩৩· ১ মিনিট পড়া

হাইকোর্ট বিভাগ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের কাজ আট সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালত অবমাননার একটি মামলার শুনানি শেষে এই নির্দেশনা দেন বিচারকগণ।
এই মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিবর্গ। আদালতের এই বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন জে বি এম হাসান, আজিজ আহমেদ ভূঞা, মিনহাজুল হক চৌধুরী, মনজিল মোরসেদ, রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং নূর মোহাম্মদ আজমী। এছাড়া শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
শুনানিকালে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত। এ এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ শুরুর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া প্রয়োজন।
আইনজীবীরা আরও জানান যে, আইন অনুযায়ী সমুদ্রসৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ। এরপরও বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত কক্সবাজার পৌরসভা বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে এই সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি তুলে ধরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১০ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দখল ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছিল। শুনানি শেষে ২০১১ সালে হাইকোর্ট সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মিত সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি), কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কক্সবাজার পৌরসভা সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহ বন্ধের নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, আদালত অবমাননার মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








