বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত নয়: হাইকোর্ট
শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির অনুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর গচিহাটা কলেজের এক শিক্ষকের রিট মামলার রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির অনুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে প্রকাশিত এক সংবাদে এই তথ্য জানা গেছে, যা দেশের শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষক সমাজের চাকরির সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী গচিহাটা কলেজ। এই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে সরাসরি বরখাস্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে নামঞ্জুর করে এবং তাকে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ নিজ পদে সসম্মانے পুনর্বহালের সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই যৌক্তিক ও আইনানুগ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিলেন সংশ্লিষ্ট গচিহাটা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আখতারুজ্জামান। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত সম্প্রতি সেই রিট আবেদনটি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন, ফলে বোর্ডের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
হাইকোর্ট তাদের রায়ে গভর্নিং বডির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, টেলিফোনে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। নিয়মানুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলে তা অবশ্যই যথাযথভাবে ডাকা গভর্নিং বডির সভায় আনুষ্ঠানিক রেজুলেশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল মনসুর ইতোমধ্যে অবসরের বয়সে পৌঁছে গেছেন। ফলে আইনগতভাবে তাকে বর্তমানে আগের পদে পুনরায় পুনর্বহাল করার আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শিক্ষক আবুল মনসুর তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। আদালত রায়ে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি অবসরের বয়সে পৌঁছানোর তারিখ পর্যন্ত সমস্ত বকেয়া বেতন, অন্যান্য সকল চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য সকল পেনশন সুবিধা পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির অহেতুক ও বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ওপর একটি শক্ত আইনি বাধা তৈরি হলো। মো. সোহরাওয়ার্দী, দিহিদার মাসুম কবির, কামরুজ্জামান, জহিরুল ইসলাম, মো. আনিসুর রহমান খান ও সুলতান মাহমুদ বান্না সহ সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এই রায়ের সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করছেন।








