ময়মনসিংহ ও গাইবান্ধায় অবৈধ সার মজুতে ব্যবসায়ী দণ্ড ও জরিমানা
অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করার দায়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অপর এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশের দুটি ভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে সার মজুত করার দায়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এই অভিযান দুটি পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পরিচালিত অভিযানে তিনটি গোডাউনে অবৈধভাবে ৩১ দশমিক ৮ টন সার মজুত রাখার সত্যতা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নূর-এ-আলম নামের এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে অনিয়মের দায়ে শ্যামল চন্দ্র সাহা নামের আরেক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এই পুরো কার্যক্রমে ফজলুল হক, রিপা রানী চৌহান, শামসুল হক প্রমুখের সংশ্লিষ্টতা বা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
উদ্ধारকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি এবং ৮৫ বস্তা এমওপি সার; যার মোট পরিমাণ ৬৩৬ বস্তা এবং প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে সার ছিল। ঈশ্বরগঞ্জে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান। অভিযান শেষে তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বিধি অনুযায়ী তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সানজিদা রহমান আরও বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে বেশি দামে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। জব্দ করা সার অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। অবৈধভাবে সার মজুত বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে অতিরিক্ত সার মজুত করার দায়ে ‘কুঞ্জ ট্রেডার্স’-এর মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র দাসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঈফফাত জাহান তুলি।
অভিযান পরিচালনা শেষে ঈফফাত জাহান তুলি গণমাধ্যমকে জানান, প্রয়োজনীয় যেকোনো পণ্য অবৈধভাবে মজুত করা একটি অপরাধ। বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে, তাই অবৈধভাবে সার মজুতকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা মেনে নেওয়া হবে না এবং বেশি দামে সার বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, বাজারে কোনোভাবেই সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।








