রাজশাহীতে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুত, কৃত্রিম সংকটের হুঁশিয়ারি
রাজশাহীতে বর্তমানে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজশাহীতে চলতি আগস্ট মাসে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় এই তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন কাজী শহিদুল ইসলাম।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে রাজশাহীতে দুই হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা সার গুদামগুলোতে মজুত আছে। ডিলারদের মাধ্যমেই মূলত এই সারগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
কৃষকদের বর্তমান চাহিদা ও মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত সার চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাজী শহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সভায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আগামী মাস বা সেপ্টেম্বর মাসের সার উত্তোলন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলে জানানো হয়েছে। এপ্রসঙ্গে কাজী শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, আগামীকাল থেকেই ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
এদিকে রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আমন ধান রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই কৃষিকাজ সফল করতে সারের জোগান ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট ও তদারকি দল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে এক হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
উক্ত সভায় প্রশাসনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মো. ইউসুফ আলী, মোস্তফা কামাল হোসেন, মো. ইবনুল আবেদীন এবং এমএ মান্নান উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এছাড়া মনিটরিং কার্যক্রমে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে, যার মধ্যে মেসার্স মোসলেম মোল্লা ও মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সার্বিক সহযোগিতায় এই মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।








