যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও ভ্রমণ বয়কট করছেন কানাডার নাগরিকরা
বাণিজ্য বিরোধ ও শুল্ক নিয়ে উত্তেজনার জেরে কানাডায় মার্কিন পণ্য, ভ্রমণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বয়কটের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৬· ১ মিনিট পড়া

সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ, উচ্চহারে শুল্ক আরোপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর জেরে কানাডিয়ানদের মধ্যে মার্কিন পণ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ এবং দেশটির বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বয়কটের প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দুই দেশের এই জটিল পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও বাণিজ্যিক সংঘাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপে কানাডার জনগণের এই মনোভাবের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সাধারণ নাগরিকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
জরিপে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ কানাডিয়ানের মনোভাবই সম্পূর্ণ নেতিবাচক। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তাদের বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার কথা বলেছেন। এর পরিবর্তে তিনি নতুন নতুন বাজার এবং বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য বিরোধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে উত্তর আমেরিকার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা সহসা কাটছে না। বরং কানাডার জনগণের মধ্যে মার্কিন পণ্য ও ভ্রমণ বয়কটের এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন মোড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।








