কানাডার জলাধারে রহস্যজনক ভাসমান দ্বীপের দেখা মিলল
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উইলস্টন জলাধারে ১ হেক্টর আয়তনের একটি ভাসমান দ্বীপ ফের তীরের কাছে দেখা গেছে। মাঝ আগস্টে বোটচালকদের চোখে পড়ার পর স্যাটেলাইট চিত্রে এর খোঁজ হারিয়ে গিয়েছিল। বিসি হাইড্রো জানিয়েছে, বহু বছরের জমে থাকা কাঠ থেকে জলাধারের পানি বাড়ার কারণে এটি সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১৬· ১ মিনিট পড়া

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উইলস্টন জলাধারে একটি ছোট ভাসমান দ্বীপের দেখা মিলেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বোটচালকরা প্রথম এই ভাসমান দ্বীপটি দেখতে পান। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯,৮০০ বর্গমিটার বা এক হেক্টর। আমেরিকান ফুটবলের দেড়টি মাঠ অথবা একটি কানাডিয়ান ফুটবল মাঠের আকারের সমান এই দ্বীপটি নিয়ে স্থানীয় মহলে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিসি হাইড্রোর বব গ্যামার জানান, তিনি যখন প্রথম এটি দেখেন, তখন তার মনে হয়েছিল এটি যে কোনো জায়গার হতে পারে এবং এটি বাস্তব নাও হতে পারে। বব গ্যামার আরও উল্লেখ করেন যে, এই দ্বীপটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এবং বেশিরভাগ মানুষই এর কাছাকাছি কখনো পৌঁছাতে পারবেন না।
দ্বীপটির অবস্থান নিয়ে কিছু জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে এই ভাসমান দ্বীপটির খোঁজ হারিয়ে ফেলেছিলেন কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে এটিকে আবার তীরের কাছাকাছি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথম যেখানে এটি দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বা ১৮.৬ মাইল দূরে এটিকে পুনরায় শনাক্ত করা হয়।
এই দ্বীপটির প্রকৃতি সম্পর্কে উইসকনসিন পাবলিক রেডিও, বিবিসি এবং লেক চিপেওয়া ফ্লোয়েজ রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে চাইল ট্রেল্যান্ড মন্তব্য করেছেন যে, এটি পানির উপরিভাগে ভেসে থাকা কোনো পাতার মতো নয়। অর্থাৎ এটি সাধারণ কোনো ভাসমান বস্তু নয়, বরং বেশ বড় একটি ভূখণ্ড।
বিসি হাইড্রো এই দ্বীপটি সৃষ্টির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থাটির মতে, বহু বছর ধরে জমে থাকা কাঠ বা ড্রিফটউড একত্রিত হয়ে এই দ্বীপটি তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে জলাধারের পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এটি মূল shoreline বা উপকূলরেখা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে ওঠে।
তবে এই ভাসমান দ্বীপটির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বব গ্যামার প্রশ্ন তুলেছেন যে, এর পর এটি কোথায় গেল তা আমরা কেউ জানি না। এটি কি ডুবে গেছে, নাকি জলাধারের অন্য কোনো কোণায় গিয়ে আটকে গেছে? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বব গ্যামার স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, কেউ যেন এই দ্বীপে না যায়। কারণ দ্বীপটি যেকোনো সময় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে।








