ফ্লেক্স ও সেন্টিনেল-৩সি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ইএসএ
উদ্ভিদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চাপ মূল্যায়নের জন্য ফ্লেক্স এবং সামুদ্রিক পরিবেশ ও ফসলের ফলন পর্যবেক্ষণের জন্য সেন্টিনেল-৩সি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ কর্মসূচি কোপার্নিকাসের অংশ হিসেবে এই উপগ্রহগুলো কাজ করবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৭:২২· ১ মিনিট পড়া

মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করে সম্প্রতি ফ্লেক্স এবং সেন্টিনেল-৩সি নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীর পরিবেশ, উদ্ভিদকুল এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইএসএ এই মিশনগুলো পরিচালনা করছে, যা বিজ্ঞানীদের বহুমুখী তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করবে।
উৎক্ষেপিত উপগ্রহগুলোর মধ্যে ফ্লুরোসেন্স এক্সপ্লোরার বা সংক্ষেপে ফ্লেক্স উপগ্রহটির প্রধান কাজ হলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। এই উপগ্রহটি সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদের নির্গত অতি ক্ষীণ ফ্লুরোসেন্স পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এর মাধ্যমে গবেষকরা উদ্ভিদের ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফ্লেক্স উপগ্রহটি নিয়মিত বিরতিতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আমাদের গ্রহকে আবর্তন করবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্লেক্স উপগ্রহ দিনে ১৪ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে। এই ঘন ঘন প্রদক্ষিণ প্রক্রিয়ার ফলে বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদের সার্বিক অবস্থা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন।
ইএসএ জানিয়েছে, এই উপগ্রহটি বিজ্ঞানীদের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য, বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত চাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করতে সহায়তা করবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে কৃষ ও পরিবেশ রক্ষায় বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে সেন্টিনেল-৩সি উপগ্রহটি। এটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ কর্মসূচির পৃথিবী পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অংশ কোপার্নিকাস-এর একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নজরদারি চালানো।
সেন্টিনেল-৩সি উপগ্রহটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সামুদ্রিক পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে সমুদ্রের তাপমাত্রা, ঢেউয়ের উচ্চতা এবং সমুদ্রস্রোতের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সামুদ্রিক ট্রাফিক ও আবহাওয়া পূর্বাভাসে কাজে লাগবে।
পাশাপাশি এই উপগ্রহটি খাদ্য সংকট রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্য সংকট রোধে ফসলের ফলন সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে এটি ভূমির ব্যবহার এবং ভূমির ‘আচ্ছাদন’ বা ল্যান্ড কভার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। এর ফলে কৃষি পরিকল্পনা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি আরও পোক্ত হবে।








