২৫ বছর পর রহস্য ভেদ: মিল্কিওয়েতে হাইড্রোজেনহীন হিলিয়াম নোভা আবিষ্কার
বহو প্রতীক্ষার পর দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষণা শেষে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে আবিষ্কৃত হয়েছে একমাত্র নিশ্চিত হাইড্রোজেনহীন হিলিয়াম নোভা ভি৪৪৫ পাপিস। বিভিন্ন শক্তিশালী টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই নক্ষত্রযুগলের প্রকৃত প্রকৃতি উন্মোচন করেছেন গবেষকরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মহাকাশে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ধূলিমেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে ভি৪৪৫ পাপিস নামক বিস্ফোরিত নক্ষত্রের প্রকৃত প্রকৃতি আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই নক্ষত্রটি বিস্ফোরিত হয়েছিল। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে চলা গবেষণার ফলে এর পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এসেছে।
গবেষণাটিতে জানা গেছে যে, এই বিস্ফোরণটিতে কোনো হাইড্রোজেন পাওয়া যায়নি। এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে আবিষ্কৃত একমাত্র নিশ্চিত হিলিয়াম নোভা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মহাকাশের এই বিরল ঘটনাটি নিয়ে বিজ্ঞানমহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
ওয়ারউইক ইউনিভার্সিティর গবেষক জন মিলস বিভিন্ন টেলিস্কোপের ডেটা ব্যবহার করে এই লুকিয়ে থাকা নক্ষত্রযুগলকে সফলভাবে শনাক্ত করেছেন। তার এই গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে নাসা, ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ, হাবল স্পেস টেলিস্কোপ, সাউদার্ন আফ্রিকান লার্জ টেলিস্কোপ এবং টেস স্যাটেলাইটের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি।
এই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর থেকে নক্ষত্রটি ২৫ বছর ধরে ধূলিমেঘের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। নক্ষত্রটি থেকে ছড়িয়ে পড়া গ্যাস ও ধূলিকণার আস্তরণের এলাকা এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত। এছাড়া নক্ষত্র থেকে নির্গত গ্যাসের পিণ্ডের ছোটার গতি ঘণ্টায় প্রায় এক কোটি বিশ লাখ কিলোমিটার।
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে যে, এই সিস্টেমটিতে একটি শ্বেত বামন রয়েছে যা একটি হিলিয়াম নক্ষত্র থেকে জ্বালানি চুরি করছে। এই নক্ষত্রযুগল একে অপরের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ৩.৭ দিন।
মহাকাশ গবেষণায় এই আবিষ্কারটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নত টেলিস্কোপের যৌথ প্রচেষ্টায় মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এই গভীর রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হলো।








