কানাডার পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। শনিবার, ২২ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে এই বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনার এই ব্যর্থতার পরেই মার্কিন পক্ষ থেকে নতুন এই শুল্কের সিদ্ধান্ত আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা এই নতুন শুল্কের ফলে কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন এই শুল্কের পরিধি সম্পর্কে জানা গেছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের তালিকার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্প যন্ত্রপাতি এবং দুগ্ধজাত পণ্য। এই খাতের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের সেরা চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি আরও বলেন, কানাডীয়দের লক্ষ্য পূরণের জন্য সেই অগ্রগতি যথেষ্ট ছিল না।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ার ক্ষেত্রে কানাডার জন্য ‘একটি হারানো সুযোগ’। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যে বাণিজ্য চুক্তির পথ যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, তারই ইঙ্গিত মিলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপে বসে নেই কানাডা সরকারও। মার্কিন সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা ‘ডলার-ফর-ডলার’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার এই বাণিজ্য বিরোধ আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








