যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য যুদ্ধ চরমে, পাল্টাপাল্টি শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এই নজিরবিহীন বাণিজ্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট ওয়াশিংটন ডি.সি. ও ওটাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ এক চরম রূপ নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর আকস্মিক এবং কঠোরভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে, যার ফলে দুই মিত্র দেশের মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডা বসে থাকেনি। মার্কিন পদক্ষেপের কঠোর জবাব দিতে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থনৈতিক সংঘাতে কনজারভেটিভ পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই বাণিজ্য সংঘাতের নানা দিক উঠে এসেছে, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্য ও শুল্কের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত ৭.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব শুল্ক আমাদের পুরো দেশের কানাডীয় শ্রমিক, ব্যবসা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি কানাডার ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ। তবে কানাডা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং কানাডিয়ানরা আজ সকালে দেখতে পাচ্ছে যে আমরা ঐক্যবদ্ধ, আমাদের জবাবের ক্ষেত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
মার্ক কার্নি এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে, আপনি তখনই যুদ্ধের মধ্যে থাকবেন, যখন আপনি আক্রমণের শিকার হবেন। কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে এবং আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এই বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, আমি অনেক দেশের সঙ্গে কাজ করি, আর কানাডাই সবচেয়ে কঠিন এবং অযৌক্তিক। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, তারা নিজেদের অধিকারপ্রাপ্ত মনে করে, কিন্তু তারা কোনো অঙ্গরাজ্য নয় এবং আর কোনো বিশেষ সুবিধাও পাবে না! এছাড়া অন্টারিওর সঙ্গে আমরা আর খুব বেশি ব্যবসা করব বলে আশা করি না বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন যে, পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে আশার বাণী শুনিয়ে তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমি একটি চুক্তি চাই। এমন একটি ভালো চুক্তি, যা মার্কিন জনগণের জন্য ভালো হবে, আবার কানাডীয়দের জন্যও ভালো হবে। এদিকে এই সামগ্রিক বাণিজ্য সংঘাতে ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও মার্ক কার্নি, ডগ ফোর্ড, ক্লদিয়া শেইনবাউম ও মার্সেলো এব্রার্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
বাণিজ্য উত্তেজনার এই পুরো প্রেক্ষাপটে ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার, ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড, ৯০০টি মার্কিন পণ্য, ৭০০ মার্কিন পণ্যের এবং ২ হাজার কোটি ডলারের মতো বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও আর্থিক অংকের বিষয় সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি ১৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার কোটি ডলার ও ৫ শতাংশের মতো বিভিন্ন হারের হিসাবও এই বাণিজ্য বিরোধের আলোচনায় উঠে এসেছে। দুই দেশের এই নজিরবিহীন বাণিজ্য দ্বন্দ্ব উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








