ভূমধ্যসাগরে সুনামির ঝুঁকি, আগামী ৩০ বছরে শঙ্কা শতভাগ
ফ্রান্সের রিভিয়েরা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সুনামির ঝুঁকি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো। আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ১ মিটারের বেশি উঁচু সুনামি তরঙ্গের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফ্রান্সের রিভিয়েরা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায় সুনামির প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সুনামির ঐতিহাসিক প্রভাব এবং বর্তমান বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো জানিয়েছে যে, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে ১ মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি তরঙ্গ সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সুনামির কারণে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ফ্রান্সের রিভিয়েরা অঞ্চলে ঐতিহাসিক সময়কাল অর্থাৎ ষোড়শ শতাব্দী থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত প্রায় ২০টি সুনামি সংঘটিত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ও প্রাকৃতির ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, এখানে সুনামির ঝুঁকি বাস্তব।
ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক ঘটনার উল্লেখ আছে যা এই অঞ্চলের ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে। ১৮৮৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লিগুরিয়ান সাগরে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার আনুমানিক মাত্রা ছিল ৬.৫ থেকে ৬.৮ এর মধ্যে।
এ ছাড়া ২০ শতকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ১৯ শতকের পর ১৯ শে অক্টোবর ১৯৭৯ সালে নিস শহরে একটি নির্মাণাধীন সাইট ধসে পড়ার কারণে ভূমিধস ও সুনামি সৃষ্টি হয়, যার ফলে আটজনের মৃত্যু হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২১ মে আলজেরিয়ায় ঘটা বুমের্দেস ভূমিকম্পের ফলে সুনামি প্রভাব তৈরি হয়েছিল। সেই প্রভাব প্রায় ৭৫ মিনিট পর ফরাসি রিভিয়েরা উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছিল।
এই ধরনের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্রান্সের নিজস্ব প্রস্তুতিও রয়েছে। দেশটি সেন্ট্রে ডি'অ্যালার্ট অক্স সুনামি (সেনাল্ট) নামক জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে, যা ২০১২ সালের জুলাই থেকে সক্রিয় রয়েছে।








