ভূমধ্যসাগরে সুনামির আশঙ্কা, ঝুঁকিতে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে ১ মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায় সুনামি প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন জোরদার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলটি নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
২০২৪ সালে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা, নিস এবং ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকা অঞ্চলে সুনামি প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে ১ মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। বিশ্বব্যাপী ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সুনামির কারণে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা অঞ্চলে অতীতেও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত হানার ইতিহাস রয়েছে। ১৬ শতক থেকে ২০ শতকের শুরুর দিক পর্যন্ত এই অঞ্চলের উপকূল বরাবর প্রায় ২০টি সুনামি সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা এবং বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রাক্কলন অঞ্চলটির উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।
ইতিহাসের বিভিন্ন বড় ভূমিকম্প এই অঞ্চলে সুনামি সৃষ্টি করেছিল। এর মধ্যে ১৮৮৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লিগুরিয়ান সাগরে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রাক্কলিত মাত্রা ছিল ৬.৫ থেকে ৬.৮-এর মধ্যে। এ ধরনের প্রলয়ঙ্করী ভূকম্পন অতীতেও এই জলসীমায় বড় ধরনের বিপদের সংকেত দিয়েছে।
প্রাকৃতিক কোনো আকস্মিক দুর্যোগ ছাড়াও মানুষের কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য কারণেও সুনামি ও ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। যেমন—১৯৭৯ সালের ১৬ অক্টোবর নিস শহরে একটি নির্মাণকাজের সাইট ধসে পড়ার কারণে ভূমিধস এবং সুনামি ঘটেছিল। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আটজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
দূরবর্তী অঞ্চলের ভূমিকম্পও ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায় সুনামি প্রভাব ফেলতে পারে। এর বড় উদাহরণ পাওয়া যায় ২০০৩ সালের ২১ মে। ওই দিন আলজেরিয়ায় আঘাত হানা বুমের্দেস ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি প্রভাব প্রায় ৭৫ মিনিট পর ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছিল।
এ ধরনের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। ফ্রান্স তাদের নিজস্ব জাতীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র সেন্ট্রাল ডি'এলার্টে অক্স সুনামি (সেনাল্ট) পরিচালনা করে আসছে, যা ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে নিয়মিতভাবে সক্রিয় রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ScienceDaily
আপনার প্রতিক্রিয়া