ফরাসি রিভিয়েরা ও ভূমধ্যসাগরে সুনামির ঝুঁকি ও প্রস্তুতি
ভূমধ্যসাগরে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ১ মি터ের বেশি উঁচু সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কা প্রায় ১০০ শতাংশ। ফরাসি রিভিয়েরা ও ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায় সুনামি ঝুঁকি ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন মূল্যায়ন সামনে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফরাসি রিভিয়েরা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায় সুনামি ঝুঁকি ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সুনামির কারণে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বে সুনামির কারণে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে ১ মিটার বা তার চেয়ে বেশি উঁচু সুনামি ঢেউ সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। এমন আশঙ্কার মুখে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে যেকোনো ধরনের বড় বিপদের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের ক্ষেত্রে নিজস্ব জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র সচল রয়েছে, যার নাম সেনাল্ট (Cenalt)। ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে এই কেন্দ্রটি সুনামি নজরদারির কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এই কেন্দ্রটি ফ্রান্সের উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সুনামি ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করে আসছে এবং ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি ও অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেও সুনামি ঝুঁকি মূল্যায়ন ও গবেষণার কাজ চলমান রয়েছে।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে ফরাসি রিভিয়েরা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে অতীতে সুনামি ও ভূমিকম্পের নানা ঘটনার প্রমাণ মেলে। ১৬ শতক থেকে শুরু করে ২০০০ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত ফরাসি রিভিয়েরা বরাবর প্রায় ২০টি সুনামি ঘটনার কথা জানা যায়। এসব ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে ১৮৮৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লিগুরিয়ান সাগরে ঘটা শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অন্যতম, যার আনুমানিক মাত্রা ছিল ৬.৫ থেকে ৬.৮ এর মধ্যে।
এছাড়াও সাম্প্রতিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার নজির রয়েছে। এর মধ্যে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালের ১৬ অক্টোবর, যখন নিস শহরে একটি নির্মাণকাজে ধস নামার ফলে ভূমিধস ও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় মোট আটজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ধরনের স্থানীয় দুর্ঘটনাগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করে দেয়।
শুধু স্থানীয় ভূকম্পন বা ভূমিধস নয়, দূরের কোনো স্থানে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবও এসে পৌঁছাতে পারে ফরাসি রিভিয়েরায়। এর একটি বড় উদাহরণ হলো ২০০৩ সালের ২১ মে আলজেরিয়ায় ঘটা বোমেরদেস ভূমিকম্প। ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির প্রভাব প্রায় ৭৫ মিনিট পর ফরাসি রিভিয়েরা উপকূলে এসে পৌঁছেছিল। এসব ঐতিহাসিক এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সুনামি আঘাত হানার আশঙ্কার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।








