টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য, জিআই স্বীকৃতি এবং ইউনেস্কোর অর্জন
টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশ থেকে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়া ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায় এই শাড়ি। প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করছেন মনি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই চন্দ্র বসাক।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৬· ১ মিনিট পড়া

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপাদন, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ি তৈরির শিল্প এবং এর সুদীর্ঘ ইতিহাস বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই শিল্প টিকিয়ে রেখেছে স্থানীয় বুননশিল্পীরা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, টাঙ্গাইলে শাড়ি বুনন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বসাক সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন জনগোষ্ঠী। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকার ধামরাই এবং চৌহাট্টা অঞ্চল থেকে আসা তাঁতিদের হাত ধরেই এই অঞ্চলে শাড়ি বুননের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। দীর্ঘকাল ধরে এই তাঁতিরা তাদের নিপুণহাতে টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি করে আসছেন।
এই শাড়ির দীর্ঘ পথচলায় সম্প্রতি দুটি বড় অর্জন যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল শাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এর ঠিক পরপরই, ২০২৫ সালে টাঙ্গাইল শাড়ির বুননশিল্প ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
টাঙ্গাইল শাড়ির রয়েছে বিভিন্ন ধরন ও বৈচিত্র্য। বাজারে সুতি বা কটন, হাফ সিল্ক, পিওর সিল্ক, সফট সিল্ক, কটন জামদানি, বালুচারী এবং টাঙ্গাইল বিটি শাড়ি পাওয়া যায়। ১২ থেকে ১৪ হাতের এই শাড়িগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নকশার পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিজেদের পছন্দমতো নকশি পাড় ও অন্যান্য কাজ করিয়ে নিচ্ছে।
বাজারে টাঙ্গাইল শাড়ির মূল্যেও রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। সাধারণ শাড়ির দাম কয়েকশ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে ভালো মানের ও জটিল নকশার শাড়ির দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিশেষ কাজের ক্ষেত্রে একটি শাড়ির দাম এক লাখ বা দেড় লাখ টাকা পর্যন্তও হয়ে থাকে।
এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৪৫ বছর ধরে টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে কাজ করছেন মনি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই চন্দ্র বসাক। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি টাঙ্গাইল শাড়ির স্বকীয়তা তুলে ধরেছেন।
নিমাই চন্দ্র বসাক টাঙ্গাইল শাড়ি সম্পর্কে বলেছেন, "টাঙ্গাইল শাড়ির নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যবাহী নকশা রয়েছে, যা অন্য শাড়ি থেকে একে আলাদা করেছে। শাড়ি পরলে এর বুনন ও কাপড়ের গুণমানও সহজে বোঝা যায়।" এই বৈশিষ্ট্যই টাঙ্গাইল শাড়িকে দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে সমাদৃত করেছে।








