প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানি কি আসলেই মেশে?
প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকরা। চিলির কনসেপসিওন ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নদী বা হিমবাহ সাগরে মিশলে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে শুরুতে সীমান্ত রেখা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত পানি মিশে যায়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানির মিশ্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে নানা কৌতূহল কাজ করে আসছে। অনেক সময় দুই মহাসাগরের সংযোগস্থলে আলাদা রেখা বা ভিন্ন রঙের পানির উপস্থিতি দেখা যায়। এই বিষয়ে এবার সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকরা।
চিলির কনসেপসিওন ইউনিভার্সিটির গবেষক নাদিন রামিরেজ এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের একটি পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
নাদিন রামিরেজের ভাষায়, এই প্রশ্নটার সংক্ষেপে উত্তর হলো, হ্যাঁ। পানি অবশ্যই মেশে। দুই মহাসাগরের পানি কখনো আলাদা থাকে না, বরং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন কোনো নদী বা হিমবাহ সাগরে এসে মেশে, তখন সেখানে পানিপ্রবাহের ঘনত্বের মধ্যে তারতম্য দেখা যায়। এই ঘনত্বের পার্থক্যের কারণেই মূলত শুরুর দিকে পানির একটি দৃশ্যমান সীমান্ত রেখা বা আলাদা রেখা তৈরি হয়।
তবে এই ভিন্নতা বা সীমান্ত রেখা চিরস্থায়ী নয়। নির্দিষ্ট কিছু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর নদীর বা হিমবাহের পানি সাগরের মূল পানির সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যায়, যা মহাসাগর দুটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এদিকে গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামুদ্রিক স্রোতের স্বাভাবিক গতি এবং বিভিন্ন পানির পরিধি ও মিশ্রণের গতিও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
চিলির কনসেপসিওন ইউনিভার্সিটির অপর গবেষক ডি ল্যাভার্ন এই সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের এই ব্যাখ্যা মহাসাগরীয় পানির মিশ্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।








