আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ স্রোত ও জলবায়ু পরিবর্তনের গবেষণা
আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামোক নিয়ে নতুন এক গবেষণায় প্রায় ১৩ হাজার বছর আগের জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও পটসডাম ইনস্টিটিউটের গবেষকরা এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামোক (AMOC) নিয়ে নতুন গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এই গবেষণাটি মূলত আটলান্টিক মহাসাগর, গ্রিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের জলবায়ু পরিবর্তন ও মহাসাগরীয় স্রোতের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ওপর আলোকপাত করেছে। অ্যামোক হলো মহাসাগরীয় স্রোতসমূহের একটি বিশাল উত্তর-দক্ষিণ ব্যবস্থা।
এই বিশাল ব্যবস্থাটি উত্তর দিকে উষ্ণ উপরিভাগের পানি আর্কটিকের দিকে বহন করে নিয়ে যায় এবং এর বিনিময়ে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানি দক্ষিণে ফিরিয়ে আনে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই স্রোত ব্যবস্থাটি প্রায় এক পেটাওয়াট তাপ উত্তর দিকে বহন করে। এটি মানবজাতি যে পরিমাণ মোট শক্তি ব্যবহার করে তার প্রায় ৫০ গুণ।
গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা আর্গো ফ্লোট ব্যবহার করেছেন। একটি আর্গো ফ্লোট হলো এমন একটি রোবটিক প্রোব, যা সমুদ্রের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মহাসাগরের গভীরের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)-এর একটি গবেষণায় প্রায় ১৩ হাজার বছর আগের ইয়ংগার ড্রাইয়াস সময়কালের দিকে ফিরে তাকানো হয়েছে। ওই সময়কার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বর্তমান জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে এর তুলনা করার চেষ্টা করেছেন, যা অতীতে জলবায়ু পরিবর্তনের সময় মহাসাগরীয় স্রোতের আচরণ বুঝতে সাহায্য করে।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ফাংজিংচেং ঝু এবং স্টেফান রাহমস্টর্ফ। তাদের কাজের অংশ হিসেবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট এবং যুক্তরাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। গবেষক ফাংজিংচেং ঝু এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের সময় এই স্রোত ব্যবস্থাটি 'হঠাৎ পরিবর্তিত হয়েছিল' (abruptly altered during climate change)।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের পরিবর্তন পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর এর বড় ধরনের তাৎপর্য রয়েছে। গবেষক দল এই জটিল মহাসাগরীয় প্রক্রিয়াগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নজরদারি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।








