ডেঙ্গু চিকিৎসায় ডাবের পানি ও তরল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ডেঙ্গু হলে অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার কোনো চিকিৎসা বিষয়ক বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করলে কিডনি বা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যে সমস্যা হতে পারে। পেঁপেপাতার রস বা নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলেই দ্রুত প্লাটিলেট বেড়ে যায়—এমন ধারণাও প্রমাণিত নয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ডেঙ্গু চিকিৎসায় ডাবের পানি ও তরল খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়ম নিয়ে সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত খাদ্যাভ্যাস ও ঘরোয়া টোটকা নিয়ে নানা আলোচনা শোনা যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী এসব বিষয়ের অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু হলে অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার কোনো চিকিৎসা বিষয়ক বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর পরিমাণে ডাবের পানি খেতে হবে, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয় এবং এর কোনো বাধ্যতামূলক চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই।
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, যা অতিরিক্ত খেলে কিডনি বা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যে সমস্যা হতে পারে। ডাবের পানি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হলেও মাত্রাতিরিক্ত পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে তা রোগীর উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের কিডনির জটিলতা রয়েছে বা শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাবের পানি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট সংখ্যা নিয়ে সমাজে আরও কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যেমন—অনেকে মনে করেন যে পেঁপেপাতার রস বা নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলে দ্রুত প্লাটিলেট বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসাগতভাবে এটি প্রমাণিত নয়। পেঁপেপাতার রস বা এ জাতীয় ঘরোয়া উপায়ে প্লাটিলেট দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বৈজ্ঞানিক কোনো জোরালো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গুজবে কান না দিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ও নিরাপদ উপায়ে তরল খাবার গ্রহণ করা উচিত। অপ্রমাণিত কোনো খাবার বা পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই সচেতন হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব অসচেতনতামূলক ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। রোগীর সুস্থতায় সব সময় চিকিৎসকদের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত এবং কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।








