শিশু হাসপাতালে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর ভিড়, বেড সংকট
রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হাসপাতালে বেড সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর স্বজনেরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম এবং ডেঙ্গু রোগীর চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর এই ভিড়ের কারণে হাসপাতালে বেড সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে আগত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে রোগীর স্বজনেরা নানা ধরনের জটিলতা ও সংগ্রামের মুখোমুখি হচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মশার উপদ্রব নিয়ে বাড়তি উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে এমন নানা অভিযোগের কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
রোগীদের এই ভিড়ের মধ্যে একটি পরিবারের দুই বোন রোসাইবা ও সিদরাতুল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে চার মাস ২১ দিন বয়সী রোসাইবা এবং চার বছর সাত মাস বয়সী সিদরাতুলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোসাইবার প্লাটিলেট মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে কমে ১ লাখ ১০ হাজারে নেমে এসেছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তুষার ইমরান নামের এক অভিভাবক জানান, গত মাসের ৩১ তারিখের পর মেয়েকে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে দুই দিন থাকার পর রোটাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার ডায়রিয়া হয়। পরে চাঁদপুর সদরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সেখান থেকে ডায়রিয়ার জন্য তাকে আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দিন থাকার পর স্যালাইন ও ওষুধ দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরেক অভিভাবক নিশাত মনি লিজা জানান, তার সন্তানের প্রায় ১০ দিন ধরে জ্বর ও সাত-আট দিন ধরে ঠান্ডা ছিল। প্রথমে কল্যাণপুরের ইবনে সিনায় ডাক্তার দেখালে জ্বরের ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও জ্বর কমেনি। এভাবে কয়েক দিন চলার পর তিনি বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করান।
কনিকা আক্তার নামের আরেক স্বজন জানান, তার নাতির আজ নয় দিন হলো হাম হয়েছে। তারা চাঁদপুরে ছিলেন এবং সেখানে ডাক্তার দেখানোর পরে এখানে এসেছেন। হাম হওয়ার আগে বাচ্চার জ্বর ও ঠান্ডা ছিল এবং পরে নিউমোনিয়াও ধরা পড়ে। সেখান থেকে তাকে এখানে রেফার করে দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ জাহিদ ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তি জানান, বাচ্চার প্রচণ্ড ঠান্ডা ও অতিরিক্ত কাশি হয়েছে এবং তিনি তাকে মাতুয়াইল মাতৃসদন হাসপাতালে দেখিয়েছিলেন। পরীক্ষা ও এক্স-রে করানোর পর চিকিৎসক ওষুধ দেন এবং গ্যাস বা নেবুলাইজার দিতে বলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাচ্চার এই অবস্থা চলার পর গত দুই দিন ধরে দিনে তিনবার গ্যাস দিলেও কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তাই তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাচ্চাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। এছাড়া মোসাম্মাৎ আরিফা খাতুন জানান, শুক্রবার রাতে তার বাচ্চার অনেক জ্বর আসায় শনিবার সকালে নিয়মিত ডাক্তারকে দেখান। এরপর চিকিৎসক পরীক্ষা দিলে পরদিন রিপোর্ট নিয়ে গেলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে এবং হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখনই তিনি বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।








