ডেঙ্গু পরিস্থিতি: দুই তথ্যে মিলছে ভিন্ন পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা মিলে গেলেও হাসপাতালে ভর্তি ও মোট আক্রান্তের পরিসংখ্যানে তারতম্য দেখা গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশিত তথ্যে এই অমিল উঠে আসে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আপডেট ও পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রে তথ্যের গরমিল বা সংঘাতপূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে। শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
প্রথম প্রকাশিত তথ্যের উৎস (সোর্স ১) অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই উৎস অনুসারে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে এবং মোট আক্রান্ত বা কেসের সংখ্যা ২২ হাজার ২৪৩ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, তখন মোট ১ হাজার ৬১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় আরেকটি তথ্যের উৎস (সোর্স ২) অনুযায়ীও ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে নতুন ভর্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এই দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন করে ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া এই পরিসংখ্যানে মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর সংখ্যা ৬৩ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৫০ জন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, এই সূত্র অনুযায়ী তখন মোট ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
উভয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী ডিজিএইচএস প্রতিবেদনে সকাল ৮:০০ টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার হিসাব ধরা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি উভয় সূত্রেই মিল রয়েছে। তবে অন্যান্য পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন উৎসের তথ্যের মধ্যে কিছুটা তারতম্য ও অমিল দেখা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মাধ্যম বা সূত্রে আসা এই ভিন্নমুখী পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়নে ভিন্নতা তৈরি করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) দেওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যানগুলো সংগৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে মোট আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাবে ভিন্ন পরিসংখ্যান সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির অবকাশ থাকে।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর এই নিয়মিত পরিসংখ্যান ও আপডেট প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। দৈনিক স্টার (Daily Star) সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়। শেখ সুলতানা জাহান বাধন (Shaikh Sultana Jahan Badhon) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নজর রাখছেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিসংখ্যান বা গরমিল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








