খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: আরও ২ জনের মৃত্যু ও ৭৫ নতুন ভর্তি
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৩ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ২২ জন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে খুলনা জেলায় ৪০ জন, বাগেরহাটে ২৮ জন, নড়াইলে ৪ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১ জন রোগী রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩,১৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২,৭৭৭ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬৫ জন। এছাড়া অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ৩৭ জনকে। এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মৃতদের মধ্যে ২ জন খুলনা জেলার এবং ১ জন বাগেরহাটের বাসিন্দা। এছাড়া গত ৮ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে ৫০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চরম রোগীর ভিড় দেখা দিয়েছে। খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি বিছানা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে ১৬২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যেখানে হাসপাতালের মোট ধারণক্ষমতা ১১০ বিছানা। এছাড়া এই হাসপাতালে বর্তমানে ৬১ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের বিষয়ে ডা. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, বহির্বিভাগে আসা রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বরে ভুগছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মো. আক্তারুজ্জামান জানান, রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে তারা নিচতলায় জরুরি বিভাগের পাশে একটি আলাদা ডেঙ্গু ইউনিট খোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০টি বিছানার বিপরীতে ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৫টি বিছানাoccupied রয়েছে এবং ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ১৯টি কেবিন রূপান্তর করা হয়েছে। তবে জায়গার অভাবে প্রায় ১০ জন রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের চিত্রও উঠে এসেছে। তনভীর সোহেল জানান, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় তার ১৩,০০০ টাকা ওষুধ বাবদ খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতেন এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহার করতেন, তবুও কীভাবে আক্রান্ত হলেন তা বুঝতে পারছেন না। এছাড়া মৌলি মল্লিক জানান, ডাক্তাররা টাইফয়েড বা একই ধরনের লক্ষণযুক্ত অন্য কোনো রোগ আছে কি না তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা করান এবং পরবর্তীতে তার ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়।
বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। নাজমুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তারা পরিস্থিতি দেখে চমকে গেছেন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালেই কোনো খালি বিছানা নেই। এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে বিভক্ত করে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, ফগার মেশিন দিয়ে ছিটানো এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।








