ডিএনএ অণুর জোড় বাঁধার যুগান্তকারী দৃশ্য ধারণ করলেন গবেষকরা
অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপি ও কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে ডিএনএ অণুর বিন্যাস এবং মিল খুঁজে পাওয়ার বিস্তারিত দৃশ্য ধারণ করেছেন গবেষকরা। প্রায় বিশ বছর আগের তাত্ত্বিক ধারণার চাক্ষুষ প্রমাণ মিলল এই গবেষণায়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জেনেটিক্সের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিতে গবেষকরা ডিএনএ অণুর নিজেদের মধ্যে বিন্যাস এবং মিলে যাওয়া সিকোয়েন্স শনাক্ত করার অত্যন্ত বিশদ দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপি এবং কম্পিউটার সিমুলেশনের যুগপৎ ব্যবহারের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক এই গবেষণার ফলাফল ‘নিউক্লিক অ্যাসিড রিসার্চ’ নামক স্বনামধন্য গবেষণাপত্রটিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণাটিতে উঠে এসেছে যে ডিএনএ অণু মূলত একটি ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে থাকে। এই চার্জের বৈশিষ্ট্যের কারণে ধনাত্মক চার্জযুক্ত ধাতব আয়নগুলো ডিএনএর খাঁজগুলোতে এসে জমা হতে পারে। পরবর্তীতে এই আয়নগুলো ডিএনএর অণুগুলোর মধ্যে আণবিক সেতু বা মলিকিউলার ব্রিজ হিসেবে কাজ করে, যা ডিএনএ জোড় বাঁধতে সাহায্য করে।
প্রায় বিশ বছর আগে তাত্ত্বিক পর্যায়ে যে দীর্ঘদিনের অনুমিত মেকানিজম বা প্রক্রিয়াটির কথা বলা হয়েছিল, তা এবার সরাসরি চাক্ষুষ করতে পারায় গবেষকরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই বিষয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অ্যালেক্সি কর্নিশেভ এবং ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক ও ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষকরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া টমাস ক্যাটলি জানিয়েছেন যে, দীর্ঘকাল ধরে তাত্ত্বিক হিসেবে অনুমিত এই মেকানিজমটি প্রথমবারের মতো সরাসরি দেখতে পাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল।
টমাস ক্যাটলি আরও বলেন, আমাদের হাতে থাকা উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তিগুলো ডিএনএর এই গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়াগুলোকে উন্মোচন করতে সাহায্য করছে। কোষের বহু গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএর এই মিথস্ক্রিয়াগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে ডিএনএর ভেতরের জগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হলো।
অন্যদিকে, ভিক্টর ভেলাস্কো-বেরেলেজা ব্যাখ্যা করেছেন যে কীভাবে মাইক্রোস্কোপি এবং সিমুলেশন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাইক্রোস্কোপি আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান ঘটনাটি তুলে ধরে, ঠিক যেমনটি ঘটে থাকে; কিন্তু কম্পিউটার সিমুলেশন আমাদের সেই ঘটনার পেছনের মূল আণবিক মেকানিজম বা প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি উন্মোচন করতে সহায়তা করে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য্যাগ্নেস নয় এই আবিষ্কারের ভবিষ্যৎ চিকিৎসাগত গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে গবেষকরা জেনোমের এমন সব অঞ্চল নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন যা ডিএনএ জোড় বাঁধার প্রক্রিয়ার সাথে বিশেষভাবে জড়িত। জেনোমের এই নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো ভবিষ্যতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে, যখন কোনো ক্ষতিকর মিউটেশন বা পরিব্যক্তি কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টিতে অবদান রাখে, তখন এই অঞ্চলের ভূমিকা বোঝা জরুরি। অগ্নেস নয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মৌলিক বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাতে পারে।








