ঢাবিতে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড ও এফওএমও নিয়ে গবেষণা প্রকাশ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড এবং এফওএমও বা পিছিয়ে পড়ার ভয় নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৬· ১ মিনিট পড়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড এবং 'এফওএমও' বা 'পিছিয়ে পড়ার ভয়' নিয়ে নতুন একটি গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় এই গবেষণার তথ্য সামনে আসে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ট্রেন্ড কীভাবে তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জরিপ চালানো হয়। ২০২৬ সালে পরিচালিত এই গবেষণার আওতায় মোট ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের মানসিক অবস্থার ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব মূল্যায়ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৬৫.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে 'এফওএমও' বা 'পিছিয়ে পড়ার ভয়'-এর শিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যরা কী করছে বা কী ধরনের ট্রেন্ড চলছে, তা নিয়ে সবসময় আপডেট থাকার মানসিক চাপ থেকেই মূলত এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
গবেষণার বিস্তারিত পরিসংখ্যানে এফওএমও-এর মাত্রা সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে ৫৬.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝারি মাত্রার এফওএমও বা পিছিয়ে পড়ার ভয়ে ভুগছেন বলে জানা গেছে। এই মাঝারি মাত্রার ভীতি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন মনোযোগ ও কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, গবেষক দল এই মানসিক সমস্যার আরও গুরুতর একটি রূপও চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার উপাত্ত অনুযায়ী, প্রায় ৮.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ মাত্রার এফওএমও বা তীব্র পিছিয়ে পড়ার ভয়ে আক্রান্ত। এই উচ্চ মাত্রার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড না ধরতে পারার মানসিক যন্ত্রণা অনেক বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গবেষণা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ মোকাবেলায় এ ধরনের তথ্য নীত নির্ধারণী পর্যায়ে কাজে লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় প্রকাশিত এই গবেষণাটি আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তরুণদের মানসিক সুস্থতার ওপর এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ভীতি দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে সংশ্লিষ্টরা করছেন।








