৩৬ বছরে আলী ফার্নিচার: মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যে প্রযুক্তির ছোঁয়া
মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী আলী ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানটি সফলতার ৩৬ বছর পূর্ণ করেছে। মাত্র চারটি কাঠের চেয়ার দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটিতে এখন আধুনিক সিএনসি মেশিন যুক্ত হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মৌলভীবাজারের কাঠ ব্যবসার ইতিহাস কয়েক শ বছরের পুরোনো। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে এগিয়ে চলা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আলী ফার্নিচার সফলভাবে তাদের ৩৬ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। ৩৬ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি আজ স্থানীয় বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য নামে পরিণত হয়েছে।
আলী ফার্নিচারের মূল মালিক শাহ্ মোশাহিদ আলী অতীতে একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে নিজের উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা করেছিলেন। সেই ছোট্ট পরিসর থেকে শুরু করে আজকের এই অবস্থান পর্যন্ত আসার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সততার ইতিহাস। শুরুর দিনগুলোতে তারা মাত্র চারটি কাঠের চেয়ার বানানোর মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।
বর্তমানে ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে আলী ফার্নিচারের কারখানায় ৪০ জনের বেশি কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। তাদের কর্মদক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের কারুকার্যের মান ক্রেতাদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩ হাজার টাকার সাধারণ চেয়ার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার বিলাসবহুল রাজকীয় পালঙ্ক পর্যন্ত তৈরি করা হয়।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উৎপাদনে গতি আনতে প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে আধুনিক সিএনসি মেশিন আমদানি করেছে। এর ফলে আসবাবপত্র তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে, যা কাজের মান ও গতি উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি কাঁচামালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে কাঠের দাম ১২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।
উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান নিয়ে ক্রেতাদের আস্থার জায়গাটি শক্ত করতে আলী ফার্নিচার প্রতিটি আসবাবে ১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি দিচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা ক্রেতাদের মনে বাড়তি স্বস্তি যোগ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত রয়েছেন কারিগররা। তাদের মধ্যে মো. ইউনুস শিকদার গত ২৫ বছর ধরে খাট-পালঙ্ক বানাচ্ছেন। তার দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, '২৫ বছর ধরে খাট-পালঙ্ক বানাই এখান থেকে। এত দিনে একবারও অভিযোগ নিয়ে আসা লাগেনি। সামনেও লাগবে না আশা করি।'
আলী ফার্নিচারের এই যাত্রায় শাহ্ মোশাহিদ আলীর পাশাপাশি রাখাল পাল, শাহ্ উসমান আলী জাকি, তুরানুর ইসলাম এবং প্রথম আলো সংবাদমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যুক্ত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং দীর্ঘ মেয়াদী ওয়ারেন্টির সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে চলেছে।








