মৌলভীবাজারে সংকটে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প
আধুনিক আসবাবের ভিড়ে মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজারে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কাঁচামাল ও দক্ষ কারিগরের সংকটে কোণঠাসা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছে একমাত্র দোকান 'শিফা কেইন ফার্নিচার'।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মৌলভীবাজার শহরের ঐতিহাসিক পশ্চিম বাজারে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প আজ চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বাজারের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কেবল 'শিফা কেইন ফার্নিচার' নামের একটিমাত্র দোকান টিকে রয়েছে। অথচ একসময় এই অঞ্চলে বেতের পণ্যের ব্যাপক কদর ছিল এবং ব্যবসার পরিধিও অনেক বড় ছিল।
বর্তমান বাজারে আধুনিক প্লাস্টিক, মেটাল ও পারটেক্স বোর্ডের আসবাবের ব্যাপক প্রচলন ও আধিপত্যের কারণে বেতের তৈরি পণ্যের বাজার পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত কাঁচামালের সংকট এবং দক্ষ কারিগরের অভাবে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প আজ মারাত্মকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্য ধরে রাখা এই ব্যবসায়ীরা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজারে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে 'শিফা কেইন ফার্নিচার'-এর স্বত্বাধিকারী শাহিন মিয়া বর্তমান বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মেটাল বা প্লাস্টিকের তৈরি নানা পণ্যের ভিড়ে এখন মূলত শৌখিন ক্রেতা এবং বিশেষ করে ছুটি কাটাতে দেশে আসা প্রবাসীরাই তাদের ব্যবসার মূল ভরসা হিসেবে টিকে আছেন।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রবাস থেকে নিজ দেশে ফিরে এসে মানুষজন তাঁদের ঘরের অন্দরমহলে দেশীয় ঐতিহ্যের উষ্ণতা ও নান্দনিকতা ধরে রাখার জন্য এখনো এই ধরনের আকর্ষণীয় আসবাবপত্র কিনে থাকেন। মূলত এই প্রবাসী ক্রেতা এবং কিছু শৌখিন মানুষের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে এই দোকানটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প ও এর একমাত্র দোকান 'শিফা কেইন ফার্নিচার'-এর সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংকট নিয়ে গণমাধ্যম প্রথম আলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। আধুনিকতার এই যুগে শতবর্ষী এই লোকশিল্প ও এর কারুকার্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








