মৌমাছিররানি কীভাবে কীটনাশক জমায় এবং ডিমে ছড়ায়
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, রানি মৌমাছি শরীরে জমা হওয়া কীটনাশক ডিমের মাধ্যমে অপসারণ করে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:০২· ১ মিনিট পড়া

মৌমাছির রানি কীটনাশকের রাসায়নিক পদার্থ নিজের শরীরে জমা করতে পারে এবং মাতৃীয় প্রক্রিয়ায় বা ম্যাটারনাল অফলোডিংয়ের মাধ্যমে তা ডিমে স্থানান্তরিত করতে পারে—এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস। এর সাথে যৌথভাবে কাজ করেছে লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং ইউএসডিএ-এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সার্ভিস। গবেষণার এই ফলাফলগুলো 'কারেন্ট বায়োলজি' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কর্মী মৌমাছিরা প্রথম দিনেই প্রায় ৯৫ শতাংশ কীটনাশক ফিল্টার বা ছেঁকে ফেলে। পরবর্তীতে দশম দিনের মধ্যে তারা প্রায় ৮৬ শতাংশ কীটনাশক ফিল্টার করতে সক্ষম হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে কীটনাশক জমতে থাকলে কর্মী মৌমাছিদের এই ফিল করার সক্ষমতা একসময় ভেঙে পড়তে পারে বা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে।
গবেষণায় ব্যবহারের জন্য গবেষক দল ন্যানোকলোনি এবং কম মাত্রার তেজস্ক্রিয় মার্কারযুক্ত মিথাইল প্যারাথিয়ন ব্যবহার করে কীটনাশকের গতিবিধি ট্র্যাক করেন। লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ব্রুস বুচহোলজ জানিয়েছেন যে 'বায়োএএমএস' (BioAMS)-এর মাধ্যমে তারা অত্যন্ত কম মাত্রার কীটনাশকও ট্রেস করতে পেরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গবেষণায় ব্যবহৃত কীটনাশকের ঘনত্ব মারাত্মক বা লেথাল ছিল না এবং এটি প্রকৃতিতে সচরাচর দৃশ্যমান পরিবেশগত ঘনত্বের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
রানি মৌমাছির ভূমিকা সম্পর্কে সাসচা নিকলিশ্চ বলেছেন, রানি হলো হাইভের একমাত্র সদস্য যে এমন ডিম পাড়তে পারে যা পরবর্তী প্রজন্মের কর্মী মৌমাছিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি কলোনি বাঁচিয়ে রাখেন, তাই কীটনাশক কীভাবে রানি মৌমাছি এবং তার সন্তানদের প্রভাবিত করতে পারে তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, নিজের সুরক্ষার জন্য রানি মৌমাছি এই রাসায়নিকগুলো তার ডিমের মধ্যে ফেলে দেয় বা অফলোড করে নিজেকে মুক্ত করতে চায়। তার ভাষ্যমতে, মৌমাছিতে এর আগে কেউ বিষয়টি দেখায়নি।
অ্যাঞ্জেলা এনসেরাডো-মানরিকেজ ব্যাখ্যা করেছেন যে তাদের গবেষণায় রানির শরীরে সময়ের সাথে সাথে কীটনাশক জমতে শুরু করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কর্মী মৌমাছির ফিল্টার করার ক্ষমতা অতিরিক্ত চাপে নষ্ট হতে পারে। যখন এমনটি ঘটে, তখন রানির নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করে। ম্যাটারনাল অফলোডিংয়ের মাধ্যমে রানি তার বিষাক্ত বোঝা ডিমে সরিয়ে দিতে পারে।
সাসচা নিকলিশ্চ আরও সতর্ক করে বলেছেন, যখন কীটনাশক এমন পরিমাণে জমা হয় যে রানির ডিমগুলো এতটাই রাসায়নিক ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে যে তারা আর সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে না, তখন সেখানে একটি tipping point বা সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হতে পারে। রাসায়নিক জমার এই ধীরগতির প্রভাব কলোনি পতনে বিলম্বিত অবদান রাখতে পারে। উল্লেখ্য, এই গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস, লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি (LLNL), ইউএসডিএ-এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সার্ভিস (USDA-ARS), ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি, ইউএসডিএ-এর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার, PAm- Costco USA স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ফিজ রিসার্চ প্রোগ্রাম এবং স্পেসএক্স যুক্ত ছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, রানি মৌমাছি প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডিম পাড়ে। অন্যদিকে, পৃথিবীর সমস্ত খাদ্য ফসলের এক-তৃতীয়াংশ পরাগায়ন করে থাকে এই মৌমাছিরাই। একই সাথে, গবেষণায় চাঁদকে আঘাত করা একটি স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটের কারণে ৬০ ফুটের খাদ তৈরির ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে।








