মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
বিডিরিভাইস২৪-এ স্বাগতম — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে
BDRevise24 — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

মিওসিন যুগে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ শিকারি ছিল কুমির

নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি বছর আগে মিওসিন যুগে দক্ষিণ আমেরিকার ট্রপিক্যাল বা ক্রান্তীয় বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ শিকারি ছিল কুমিরজাতীয় প্রাণী। বিশেষ করে পুরুসসরাস নেইভেনসিস নামের প্রাগৈতিহাসিক কুমির বড় শিকার ধরার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১২ · ১ মিনিট পড়া

মিওসিন যুগে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ শিকারি ছিল কুমির

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রায় ১ কোটি বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ শিকারি ছিল কুমিরজাতীয় প্রাণী বা ক্রোকোডিলিয়ানরা। হেসিনস্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টোরাল গবেষক অস্কার উইলসন এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজি নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি বছর আগের ওই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রচুর পরিমাণে বিশাল আকৃতির প্রাণী এবং শক্তিশালী সব শিকারির বসবাস ছিল। গবেষকরা এই গবেষণার জন্য জাদুঘরের সংগ্রহে সংরক্ষিত থাকা বিভিন্ন জীবাশ্ম পরীক্ষা করেছেন। বিশেষ করে তারা তৃণভোজী প্রাণীদের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশের ওপর থাকা কামড় এবং দাঁতের দাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

অতীতের ওই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার একটি বিশাল অংশজুড়ে অবস্থান করেছিল এক বিশাল হ্রদ। মিওসিন যুগের এই সময়ে এই অঞ্চলে কুমির ছাড়াও অন্যান্য বেশ কিছু শক্তিশালী শিকারি প্রাণী সক্রিয় ছিল। এই শিকারিদের মধ্যে অ্যানাকোন্ডা, সাবের-টুথ স্তন্যপায়ী প্রাণী, ওড়াওে অক্ষম 'টেরর বার্ড' বা আতঙ্ক পাখি এবং সেবেসিড প্রজাতির প্রাণীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষকদের বিশ্লেষিত জীবাশ্মগুলোর বয়স ১০.৫ মিলিয়ন থেকে ১৬ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ বছর পুরনো। তৎকালীন পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে গবেষক অস্কার উইলসন জানান, ওই সময়ে শিকারের জন্য এত বেশি পরিমাণ প্রাণী উপলব্ধ ছিল যে কেবল স্তন্যপায়ী শিকারি প্রাণীদের পক্ষে সেগুলোর সবটা খাওয়া সম্ভব ছিল না।

অস্কার উইলসন আরও উল্লেখ করেন, তাদের নতুন এই গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে ওই অঞ্চলের প্রধান শিকারি হিসেবে কুমিরজাতীয় প্রাণীরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, বিশেষ করে যখন বড় আকৃতির শিকার ধরার বিষয়টি সামনে আসত। গবেষক দলটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, জীবাশ্মগুলোতে পুরুসসরাস প্রজাতির কুমিরের তৈরি করা কামড়ের দাগের যে ঘনঘটা বা উপস্থিতি দেখা যায়, তা থেকেই প্রমাণিত হয় যে এই ট্রপিক্যাল বা ক্রান্তীয় বাস্তুতন্ত্রে এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিকারি ছিল।

গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রাগৈতিহাসিক এই দানবাকৃতির কুমিরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পুরুসসরাস নেইভেনসিস। এই ভয়ংকর প্রজাতির কুমিরগুলো লম্বায় প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেত এবং এদের শারীরিক ওজন ছিল প্রায় ১,৮০০ কিলোগ্রাম। এই বিশাল মাপের শরীর ও শক্তির কারণে দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন জলাভূমি ও নদী অববাহিকায় এই প্রজাতিটি খাদ্যশৃঙ্খলের একদম চূড়ায় অবস্থান করেছিল।

তথ্যসূত্র: ScienceDaily

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

মডারেশনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
গবেষণায় জানা গেল ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা
বিজ্ঞান

গবেষণায় জানা গেল ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা

বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট নির্ধারণ করেছেন। গবেষণার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার হেল ক্রিক গঠন এলাকায় পাওয়া জীবাশ্ম ব্যবহার করা হয়।

১ মিনিট পড়া
মঙ্গলে রোভার পাঠানোর সময় ভারী বস্তু ফেলে ৫ গর্ত তৈরি
বিজ্ঞান

মঙ্গলে রোভার পাঠানোর সময় ভারী বস্তু ফেলে ৫ গর্ত তৈরি

নাসা পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গলে পাঠানোর সময় এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভারী বস্তু ফেলে দিয়েছিল। ২০২০ সালের আগের ও পরবর্তী সময়ের তুলনামূলক পর্যালোচনার ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় মঙ্গলের পৃষ্ঠে নতুন পাঁচটি গর্ত তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে।

১ মিনিট পড়া
পারমাণবিক জ্বালানি ও বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইতিহাস
বিজ্ঞান

পারমাণবিক জ্বালানি ও বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইতিহাস

পারমাণবিক জ্বালানিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর পরিমাণ অল্প থাকে এবং নিউট্রন মন্থর করতে গ্রাফাইট বা পানি ব্যবহার করা হয়। ১৯৫৪ সালে রাশিয়ার অবনিনস্কে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।

১ মিনিট পড়া
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বৃষ্টির প্রত্যাবর্তন, ফিরছে সবুজ প্রকৃতি
বিজ্ঞান

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বৃষ্টির প্রত্যাবর্তন, ফিরছে সবুজ প্রকৃতি

যুক্তরাজ্যে তীব্র গরম ও খরার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বৃষ্টি ফিরে এসেছে। এর ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে সজীবতা ফিরতে শুরু করেছে।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER