ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বৃষ্টির প্রত্যাবর্তন, ফিরছে সবুজ প্রকৃতি
যুক্তরাজ্যে তীব্র গরম ও খরার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বৃষ্টি ফিরে এসেছে। এর ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে সজীবতা ফিরতে শুরু করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যে রেকর্ড ভাঙা গরম এবং তীব্র খরা পরিস্থিতির পর অবশেষে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ বা প্রাকৃতিক দৃশ্যপট ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। এর আগে তীব্র দাবদাহ ও খরার কারণে পুরো দেশ এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।
চলতি বছরের গ্রীষ্মকালটি ছিল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। এর ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে মারাত্মক খরা দেখা দেয়। আবহাওয়ার এই চরম রূপের কারণে জনজীবন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এমনকি শরৎকাল শুরু হলেও যুক্তরাজ্যের বড় অংশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে খরার কবজেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
তীব্র দাবদাহের ফলে পার্কগুলোর করুণ দশার বর্ণনা দিয়ে রয়্যাল পার্কসের ড্যারেন শেয়ার জানান, তাদের পার্ক নেটওয়ার্কজুড়ে ঘাস সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল এবং পরিস্থিতি বেশ আতঙ্কজনক ছিল। ঘাসের স্তর প্রায় ধূলিকণায় পরিণত হয়েছিল। অতীতে তাপপ্রবাহ দেখা দিলেও তা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্থায়ী হতো বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, তখন ঘাস পুড়ে গেলেও বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াত। কিন্তু এবার একটার পর একটা তাপপ্রবাহ আসায় পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ড্যারেন শেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন তিনি পার্কগুলোর দিকে তাকিয়ে ঘাসগুলোকে আবার সবুজ হয়ে উঠতে দেখছেন। এই ধরনের তীব্র গরম সহ্য করার এবং বর্তমান সময়ের মতো পুনরায় তা সতেজ হয়ে ওঠার চমৎকার ক্ষমতা ঘাসের রয়েছে, যার জন্য তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
গ্রীষ্মের এই খরা কৃষিখাত এবং পশুপালনের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। ক্যারোলিন থমাস নামের এক ব্যক্তি জানান, খাদ্যের অভাবে গবাদিপশুগুলো অত্যন্ত রোগা হয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের তাদের পশুপালনের জন্য শীতকালীন মজুত করা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। ভেড়া ও গাভীগুলো গাছের ছায়ার নিচে লুকিয়ে নড়াচড়া না করে শুয়ে থাকত এবং দৃশ্য দেখে মনে হতো সেগুলো মৃত কি না।
ক্যারোলিন থমাস আরও জানান, বুনো আগুনের কারণে কাউকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হলে শুধু বড় অগ্নিনির্বাপক সেবা বা পানি ছিটানোর হেলিকপ্টার বাড়ানোর কথা ভাবলে চলবে না, বরং প্রতিরোধের ওপরও জোর দিতে হবে। তবে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন হেঁটে চলার সময় চারদিকে সবুজ মাঠ দেখতে পাওয়া সত্যিই চমৎকার। যদিও তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবং পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে খরা পরিস্থিতির কারণে ভূগর্ভস্থ পানি এবং জলাধারগুলোর পানির স্তর এখনও নিচেই রয়ে গেছে। চরম আবহাওয়া এবং দাবদাহের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের পরিবেশগত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে জিল মিড, রিচার্ড বার্নস, ক্রিস্টোফার থমন্ড, রিচার্ড বেকার এবং লেইটন কলিন্সসহ বিভিন্ন সংবাদকর্মীর অবদান রয়েছে। সেনেড বা ওয়েলশ পার্লামেন্ট এবং পরিবেশ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী খরা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার এই ধীর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।








