পারমাণবিক জ্বালানি ও বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইতিহাস
পারমাণবিক জ্বালানিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর পরিমাণ অল্প থাকে এবং নিউট্রন মন্থর করতে গ্রাফাইট বা পানি ব্যবহার করা হয়। ১৯৫৪ সালে রাশিয়ার অবনিনস্কে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম-২৩৫ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে প্রাকৃতিক বা প্রক্রিয়াজাত পারমাণবিক জ্বালানিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর পরিমাণ মাত্র কয়েক শতাংশ হয়ে থাকে। এই সীমিত পরিমাণের উপাদান দিয়েই পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
পারমাণবিক চুল্লির মূল প্রক্রিয়াটি হলো নিউক্লিয়াস ভাঙার প্রক্রিয়া বা ফিশন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটি প্রমাণিত যে, ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস ভাঙার ক্ষেত্রে দ্রুতগতির চেয়ে মন্থর নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই মন্থর নিউট্রনের প্রভাবেই নিউক্লিয়াস সফলভাবে ভাঙা সম্ভব হয়।
তবে চুল্লির ভেতরে থাকা নিউট্রনের স্বাভাবিক গতি অনেক বেশি থাকে। এই নিউট্রনের গতি কমিয়ে একে কার্যকর ও মন্থর করার জন্য বিশেষ পদার্থের প্রয়োজন হয়। নিউট্রনের গতি কমানোর এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত গ্রাফাইট অথবা সাধারণ পানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
পারমাণবিক বিজ্ঞানের এই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক সফলতার ধারাবাহিকতায় বিংশ শতাব্দীতে বড় ধরনের মাইলফলক অর্জিত হয়। ১৯৫৪ সালে পারমাণবিক শক্তির শান্তিনূর্ণ ব্যবহারের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
ওই বছরেই রাশিয়ার মস্কো শহরের অদূরে অবস্থিত অবনিনস্ক শহরে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি ও নিউট্রন মন্থর করার প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।








