নভেম্বরে উৎপাদনে যেতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে নতুন আশার কথা জানানো হয়েছে। নির্ধারিত আইডিয়াল প্রোগ্রাম যদি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চালুর আগে শেষ মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষায় আটকে গেলে এই সময়সীমা আরও পেছাতে পারে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে প্রবেশ করবে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎপাদনে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের জন্য এই বিদ্যুতের দাম কেমন হতে পারে, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকার কম হতে পারে। এর আগে ২০১৬ সালে দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. মো. শফিকুল ইসলাম রূপপুরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, স্পেন্ট ফুয়েলের চেয়েও এ মুহূর্তে যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের বেশি চিন্তা, সেটি হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারি বর্জ্য তৈরি হবে। এই বর্জ্যগুলো রাখার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণাগার তৈরি হয়নি। তাই এই বর্জ্যগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে জ্বালানি ও বর্জ্য অপসারণের চুক্তি সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে। বিশেষ করে, স্পেন্ট ফুয়েল বা ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এই চুক্তি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
সার X সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আগামী ২৬ আগস্টের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের এই মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। এখন সবার নজর নভেম্বরের সম্ভাব্য উৎপাদন শুরুর তারিখের দিকে।








