গবেষণায় জানা গেল ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা
বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট নির্ধারণ করেছেন। গবেষণার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার হেল ক্রিক গঠন এলাকায় পাওয়া জীবাশ্ম ব্যবহার করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিনের গবেষণার পর বিলুপ্ত ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শরীরের সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রাচীন এই প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় নানা তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্نیا, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তারা 'থমাস' নামের একটি বিখ্যাত টি-রেক্সের দুটি দাঁত ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
জানা গেছে, এই গবেষণার জন্য ব্যবহৃত জীবাশ্মগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার হেল ক্রিক গঠন নামের ভূতাত্ত্বিক এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল। এই এলাকার ভৌগোলিক ও ভূগর্ভস্থ গঠন প্রাচীনকালের নানা তথ্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করে আসছে।
রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, বিলুপ্ত ডাইনোসর টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা বর্তমান যুগের বেশ কিছু প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মিল রয়েছে।
তুলনা করলে দেখা যায়, মানুষের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ভারতীয় হাতির শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া উটপাখির মতো উড়তে না-পারা পাখির শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৮.৩ থেকে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মুরগির শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৪০.৬ থেকে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে। অন্যদিকে প্রাচীন কুমিরজাতীয় প্রাণীগুলোর গড় তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই তাপমাত্রা নির্ধারণের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষক রবার্ট ইগল। তিনি বলেন, কোনো খনিজ তৈরি হওয়ার সময় তার রাসায়নিক গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্য যেন সেই মুহূর্তেই ‘হিমায়িত’ হয়ে যায়। তাই সেই রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা অনেক কোটি বছর আগের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স ডাইনোসর প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম, ডাইনোসর ইনস্টিটিউট, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই গবেষণায় মূল ভূমিকা পালন করেছেন গবেষক রবার্ট ইগল ও স্টিভেন ব্রুসাটে।








