টাকা ও সুখের সম্পর্ক এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে নতুন গবেষণা
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় অর্থ ও সুখের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কার্যকারিতা নিয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থের নেতৃত্বে সম্প্রতি অর্থ এবং সুখের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এই গবেষণা কার্যক্রমে ৩৩ হাজার ৩৯১ জন কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের কাছ থেকে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষের অনুভূতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় মোট ১৭ লাখ ২৬ হাজার মুহূর্তভিত্তিক অনুভূতির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন সুস্বাস্থ্য এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এই গবেষণায় ৮৫ হাজার ডলার মধ্যম বার্ষিক পারিবারিক আয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, ওজন হ্রাস এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বর্তমানে একটি জনপ্রিয় খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটরি প্র্যাকটিস হিসেবে পরিচিত। ক্রিস্টা ভারাডি, মার্ক ম্যাটসন, কোর্টনি পিটারসন এবং থোমাস উইলসনসহ বিভিন্ন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ এবং ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর মতো প্রতিষ্ঠান এই ডায়েট নিয়ে বিভিন্ন সময় কাজ করেছে।
প্রাণী নিয়ে করা গবেষণার ফলাফলের তুলনায় মানবদেহে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ফলাফল প্রায়ই মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিপাকীয় বা মেটাবলিক পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মানুষ নিজের খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিজে নিজে বা সেলফ-রিপোর্টেড পদ্ধতিতে উল্লেখ করার সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা নিজ দায়িত্বে রেকর্ড করার প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাস্টিং বা ডায়েট চলাকালে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ খাবারের সঠিক রেকর্ড ফেরত দেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ নিজেদের খাবার গ্রহণের প্রকৃত পরিমাণ কম করে উল্লেখ করে থাকেন।
এই ধরনের সেলফ-রিপোর্টেড ত্রুটির কারণে অনেক সময় ব্যক্তিরা গবেষকদের কাছে ৪০০ থেকে ৮০০ ক্যালরি বা তারও বেশি কম রিপোর্ট করতে পারেন। তা সত্ত্বেও, এই নিয়মে খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে মানুষের প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট প্রকাশিত এই গবেষণা তথ্যাবলি অর্থ-সুখের সম্পর্ক এবং আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গবেষকরা মনে করেন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সুখের পাশাপাশি শারীরিক মেটাবলিজম এবং খাদ্যাভ্যাসের সঠিক মূল্যায়নের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।








