ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং: ওজন কমানো ও বৈজ্ঞানিক বিতর্ক
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অন্তর্বর্তী উপবাস মানুষের শরীরে প্রায় ৫% ওজন কমায়। তবে প্রাণীর ওপর গবেষণায় নাটকীয় ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে ফলাফল তুলনামূলক কম সুস্পষ্ট। এ বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অন্তর্বর্তী উপবাসের কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিতর্ক চলছে। বর্তমান সময়ে ওজন কমানোর জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হিসেবে এটি বেশ আলোচিত। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতে এই খাদ্যাভ্যাসের নানা দিক উঠে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এবং ক্রিস্টা ভারাডির গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অন্তর্বর্তী উপবাস ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই খাদ্যপদ্ধতি মানুষের শরীরে প্রায় ৫% ওজন কমায়। গবেষক ক্রিস্টা ভারাডি এই পদ্ধতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, এটি অন্য যেকোনো খাদ্য কৌশলের মতোই কার্যকর।
তবে মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্রিস্টা ভারাডি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, "মানুষ আসলে কী খাচ্ছে সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।"
অন্যদিকে, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মার্ক ম্যাটসন মানব শরীরের বিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা এমন পরিবেশে বিবর্তিত হইনি যেখানে দিনে তিন বেলা খাবার এবং তার সঙ্গে দুইবার নাশতা খেতাম।"
প্রাণী ও মানুষের শরীরের বিপাকীয় হারের পার্থক্যের বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণার প্রেক্ষিতে কোর্টনি পিটারসন জানান, "একটি ক্ষুদ্র কৃন্তক প্রাণির ১৬ ঘণ্টার উপবাস মানুষের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের উপবাসের সমান, কারণ তাদের বিপাকীয় হার অনেক বেশি।"
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব তথ্যে দেখা যায়, প্রাণির ওপর পরিচালিত গবেষণায় ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নাটকীয় ফল দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে কম সুস্পষ্ট। বৈজ্ঞানিক মহলে এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা এখনো অব্যাহত রয়েছে।








