অ্যালঝেইমারে থ্রিডি জিনোম বিন্যাসে পরিবর্তনের সন্ধান
কার্নেগেল মেলনসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কোষে থ্রিডি জিনোম বিন্যাসে পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন। সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় একক কোষ প্রযুক্তি এবং ডিপ লার্নিং মডেল ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অ্যালঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় নতুন এক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কার্নেগেল মেলন ইউনিভার্সিটি, পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি যৌথ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণার ফলাফল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে, অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু কোষে জিনোমের থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক বিন্যাস সাধারণ অবস্থার চেয়ে আলাদা হয়।
বর্তমান সময়ে অ্যালঝেইমার রোগটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় সাত মিলিয়ন আমেরিকান এই অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ওপর রোগটির প্রভাব মোকাবিলায় গবেষকরা মস্তিষ্কের জটিলতা বোঝার চেষ্টা করছেন।
গবেষণার পেছনের মূল ভাবনা সম্পর্কে কার্নেগেল মেলনের জিয়ান মা মন্তব্য করেছেন, অ্যালঝেইমার রোগটিকে কেবল এক স্তরে বসে সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়। জিনোম এবং কোষের বহুস্তরীয় কার্যক্রমের পারস্পরিক সম্পর্ক এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই জটিল গবেষণা কাজ সম্পন্ন করতে গবেষক দলটি বিশেষ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তারা একক কোষ প্রযুক্তি, মস্তিষ্কের টিস্যুর স্থানিক ম্যাপিং বা স্পেশাল ম্যাপিং এবং 'হিকফর্মার' নামের একটি গভীর শিখন বা ডিপ লার্নিং মডেল একত্রে ব্যবহার করেছেন।
গবেষণার কাজের অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা প্রিমোটর্ফম স্যাম্পল বা ময়নাতদন্তের পরবর্তী নমুনা পরীক্ষা করেছেন। বিশেষ করে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স থেকে সংগ্রহ করা নমুনাগুলো এই বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়েছে, যা রোগটির নেপথ্যের জৈবিক প্রক্রিয়া বুঝতে সাহায্য করেছে।
ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ স্কুল অফ মেডিসিনের হানসরুয়েডি ম্যাথিস এই গবেষণা সম্পর্কে বলেছেন, আমাদের এই গবেষণাটি অ্যালঝেইমার রোগে মস্তিষ্কের ভেতরে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ঘটে, তা বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে।
অন্যদিকে, ইয়াং ঝাং উল্লেখ করেছেন, একই কোষে জিনের কার্যকারিতা এবং জিনোম ফোল্ডিং বা ভাঁজ হওয়া পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ক্রোমোজোমের কাঠামোর সাথে রোগ সম্পর্কিত জিন প্রোগ্রামগুলোকে সরাসরি সংযুক্ত করতে পেরেছি।








