ফ্রি ভিপিএন সেবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পর্যালোচনা
২০২৬ সালের একটি এনডিএসএস গবেষণায় অ্যান্ড্রয়েড ভিপিএন অ্যাপগুলোর মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েছে। জনপ্রিয় অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ও ট্রাফিক ফাঁস করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন এমন একটি প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ একটি নির্দিষ্ট ভিপিএন সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি এটি ডিভাইস এবং ওই সার্ভারের মধ্যকার সংযোগটি সম্পূর্ণ এনক্রিপ্ট বা সুরক্ষিত করে তোলে। তবে এই সেবার আড়ালে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা শঙ্কা রয়েছে, যা সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও স্পষ্ট হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত এনডিএসএস-এর একটি গবেষণায় অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের ভিপিএন অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণার অংশ হিসেবে গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যায় এমন ২৮১টি জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ভিপিএন অ্যাপ পরীক্ষা করে দেখা হয়। এসব অ্যাপের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা মানদণ্ড বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এনেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষা করা ২৮১টি জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ভিপিএন অ্যাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাপ নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি পরীক্ষিত অ্যাপ ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ট্রাফিক ভিপিএন টানেলের বাইরে ফাঁস করে দিয়েছে। এই ধরনের ত্রুটির কারণে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটা ও অনলাইন কার্যক্রমের গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যায়।
এছাড়াও, ওই গবেষণার ফলাফলে আরও উঠে এসেছে যে ৬১টি অ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু ডেটা কোনো ধরনের এনক্রিপশন ছাড়াই বা উন্মুক্ত অবস্থায় প্রেরণ করেছে। এনক্রিপশন ছাড়া ডেটা আদান-প্রদান করার কারণে হ্যাকার বা তৃতীয় পক্ষের পক্ষে সেই তথ্য সহজেই চুরি বা নজরদারি করা সম্ভব হয়।
নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এই তালিকার মধ্যে ব্যবহারকারীর ডিভাইস ট্র্যাকিংয়ের বিষয়টিও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৭৬টি পরীক্ষিত অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাডভার্টাইজিং আইডি বা বিজ্ঞাপন আইডি বিভিন্ন পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই আইডিগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণ ট্র্যাক করা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সহজ হয়ে যায়।
ইঞ্জাজেট, ফেডারেল ট্রেড কমিশন, গুগল এবং ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করে আসছে। ২০২৬ সালের এই এনডিএসএস গবেষণাটি বিনামূল্যে পাওয়া ভিপিএন সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।








