সিলেটের সুনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত
সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৌহিদী জনতার আপত্তির কারণে জটিলতা তৈরি হলেও তা সমাধান করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ উপস্থিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহমান বাংলার এই প্রাচীন সংস্কৃতি দেখতে নদীর দুই তীরে হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমান। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও নানা বয়সের মানুষ এই আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে আসেন।
এর আগে এই নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তৌহিদী জনতার আপত্তির মুখে আয়োজকদের সঙ্গে এক ধরণের মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন মহলের সময়োপযোগী মধ্যস্থতায় গত ২৪ আগস্ট সেই জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়।
সব জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুনাই নদীর বুকে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে এবং স্থানীয় তৌহিদী জনতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার অবসান ঘটানো সম্ভব হয় বলে জানা গেছে।
প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে এসে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। ফাইনাল পর্বে 'হাকালুকি বাঘ' ও 'পাগলা' নামের দুটি শক্তিশালী নৌকা একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে আলাদাভাবে নিজেদের দৌড় শেষ করে। উভয় নৌকার এই অভিনব সমাপ্তি উপস্থিত দর্শকদের মাঝে দারুণ উদ্দীপনা ছড়ায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নৌকা বাইচের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। এটি ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয় এবং ধর্মের সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিকতাও নেই। তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শকরাও তাদের অনুভূতির কথা জানান। দর্শক মিসবাহ মনজুর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের ঐতিহ্য। এটি দেখতেই এখানে এসেছি। গ্রামের মানুষরা এ প্রতিযোগিতা খুব উপভোগ করছেন। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষজন এসেছেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে দীর্ঘদিন পর এক আনন্দের জোয়ার বইয়ে যায়, যা স্থানীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।








