সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার সোনাই নদে শুক্রবার বিকেলে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তি ও তৌহিদি জনতার ব্যানারে প্রচারের মধ্যেও এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার সোনাই নদে আজ শুক্রবার বিকেলে জমজমাট এক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নদীতীরে স্থানীয় লোকজনের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
তবে এই নৌকাবাইচ আয়োজন ঘিরে কিছুটা উত্তেজনাও ছিল। স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তি এবং ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিভিন্ন প্রচার চালানোর পরও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই আয়োজনের সঙ্গে বারইগ্রাম বাজার মসজিদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসন, বিয়ানীবাজার থানা, বিএনপি এবং মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ ও ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ও আলোচনা ছিল। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আনিস মাহমুদ, তাজউদ্দিন, উম্মে হাবিবা মজুমদার এবং আহমেদ রেজা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’, হাকালুকি এলাকার ‘বাঘ নাও’, বড়লেখার ঘোড়াকান্দির নৌকা এবং ‘স্বাধীন বাংলা নাও’ বিশেষভাবে প্রতিদ্বন্দিতা করে। দিনভর আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধাপের বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার শেষ পর্বে এসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। শেষ পর্বে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। তবে বাইচ চলাকালীন সোনাই নদের ওপর অন্ধকার নেমে এলে ফাইনাল খেলা আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের বাইচ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফাইনাল খেলা না হওয়ায় প্রতিযোগিতার বিজয়ী বা চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়ে এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ফাইনালের সিদ্ধান্ত এখনো মীমাংসা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এ ধরনের নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, শুকনা মৌসুমে এলাকার ভাঙা রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে। এছাড়া নদীভাঙন ঠেকাতেও একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই সেটির কাজ শুরু হবে।








