সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীর নৌকাবাইচ নিয়ে সমঝোতা
সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। শনিবার এশার নামাজের পর এক বৈঠকে উভয়পক্ষের সম্মতিতে আগামী বছর থেকে প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখার শর্তে এ সমঝোতা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটেছে। আগামী ২৮ আগস্ট এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পূর্বনির্ধারিত সূচি রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং উত্তেজনা নিরসনে শনিবার এশার নামাজের পর বাড়িগ্রাম বাজারে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এম এ মান্নান, গৌছ উদ্দিন, আবদুল লতিফ, আতাউর রহমান, জালাল উদ্দীন, মুজিবুর রহমান, আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল আহাদ, এনাম উদ্দিন দিলাল, আবদুল মালিক, খালেদ আহমদ, মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী, হোসেন আহমদ এবং আমিনুল ইসলাম। এছাড়া লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন এবং উম্মে হাবিবা মজুমদারও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় উভয়পক্ষ। এই বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ চেয়েছে আয়োজক সংগঠন বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজ। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না। উভয়পক্ষই এ সিদ্ধান্তে মত দেওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
দেলওয়ার হোসেন আরও জানান, এ বছরের আয়োজনকে ঘিরে যাতে নতুন করে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নৌকাবাইচকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান হয়েছে। এখন পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে জেনেছি। তবে পরের বছর থেকে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না-এমন শর্তে এবার সমঝোতায় ২৮ আগস্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, এমন বিষয় আমার জানা নেই।
উল্লেখ্য, এই পুরো প্রক্রিয়ায় লাউতা ইউনিয়ন পরিষদ, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজ, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বিএনপি, জাসাস, জামায়াতে ইসলামী, যুবদল এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে এবং এলাকার বিশিষ্টজনদের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা অর্জিত হয়, যা বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।








