রাজশাহীতে অবৈধ সার মজুতে ডিলারের কারাদণ্ড, পর্যাপ্ত মজুতের ঘোষণা
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে এক ডিলারকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজশাহী বিভাগে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত করার অপরাধে এক ডিলারকে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী সদরের ডাইংপাড়ায় অবস্থিত মেসার্স কৃষি ঘর নামক একটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে মেসার্স কৃষি ঘর থেকে ২০০ বস্তা এমওপি এবং ৩০০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান এই অভিযান পরিচালনা করেন এবং ডিলার সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযান ও সাজার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, কৃষি ঘরে যে পরিমাণ সার মজুত থাকার কথা, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি আছে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে ডিলারকে একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী নওদাপাড়া এলাকায় বিডিসির সার গুদাম পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় তিনি জানান, সারের কোনও ক্রাইসিস নেই এবং গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে।
ইউসুফ আলী আরও উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তারা দোকানে বিক্রি করছেন। বাইরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গুদামে সারের মজুত সবার সামনেই দৃশ্যমান এবং এখানে লুকানোর কিছু নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি, ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার, ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি এবং ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার রয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন টিএসপি সারের বরাদ্দ, প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন টিএসপি মজুত, ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ এবং প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা কৃষি অফিস, বিসিআইসি, বিএডিসি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এবং রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিয়মিত কাজ করছে। প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।








