যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য টানাপোড়েনে ইইউর সঙ্গে এগোচ্ছে কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পথে হাঁটছে কানাডা। ২০২৫ সালে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:০২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদ ও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কানাডা। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর অটোয়া এখন ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডার অর্থনীতি দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন বাজারের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। গত ২০২৫ সালে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই গেছে দক্ষিণ সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং বোম্বার্ডিয়ারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার বাইরেও এই বিশাল রপ্তানি নির্ভরতা কানাডার বাণিজ্য নীতির একটি বড় দিক।
তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল ধরেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে কানাডার কিছু দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে লক্ষ্য করেও বিভিন্ন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।
এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে গত আগস্ট মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটির আলোচকদের মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান সকল আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে আসার নির্দেশ দেন। এর পরই ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমাতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে নতুন কৌশলগত সম্পর্কের পথ খুঁজতে শুরু করে কানাডা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদ ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আলোচনা কেবল কানাডার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একটি বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপীয় নেতারাও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে কানাডার সঙ্গে এই নতুন অর্থনৈতিক মেলবন্ধনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কানাডা ও ইইউর এই সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য মানচিত্রে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কানাডার বিশাল রপ্তানি বাজার বিকল্প উপায়ে টিকিয়ে রাখতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








