যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য বিরোধ চরমে, কানাডীয় পণ্যে শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে বিভিন্ন কানাডীয় পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের জেরে মার্কিন প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কানাডীয় পণ্যের ওপর কঠোর আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডার পক্ষ থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এই ঘটনায় দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মূলত উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত আগস্টের শেষের দিকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যায়। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হোয়াইট হাউজ কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই বৃহৎ অংকের শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের অর্থনীতি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
চলমান এই সংকটের অংশ হিসেবে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার আংশিক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে বোম্বার্ডিয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির আলোকে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের একটি মাশুল কানাডাকে দিতে হবে। কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকার মাশুল তার চেয়েও অনেক বেশি।' তার এই বক্তব্যে কানাডার অবস্থান এবং আত্মরক্ষামূলক নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে, এই সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিনরিচ ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, 'সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কী লাগবে। এই আদেশগুলোর ভাষা কিন্তু আলোচনার টেবিলে ফেরার পরিবেশ তৈরির জন্য মোটেও সহায়ক নয়।'
বিবিসি-র প্রতিবেদনে উঠে আসা এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিক মিত্রতার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এই বাণিজ্য দ্বন্দ্ব কীভাবে সমাধান হবে এবং দুই দেশ শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।








