যুক্তরাষ্ট্রে ৩২৪ মিলিয়ন বছরের পুরোনো নতুন পতঙ্গের জীবাশ্ম আবিষ্কার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রায় ৩২৪ মিলিয়ন বছর আগের একটি নতুন প্রজাতির আদিম পতঙ্গের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। ‘চোশা প্রিকursor’ নামের এই পতঙ্গটি প্রাচীন পতঙ্গের বিবর্তন এবং প্যালিওজোয়িক যুগের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাসের ম্যারাথন আপলিফট অঞ্চলে প্রায় ৩২৪ মিলিয়ন বছর আগের একটি নতুন আদিম গোত্রভুক্ত পতঙ্গের প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। অবশেষ থেকে জানা যায়, এই পতঙ্গটি দেরি মিসিসিপিয়ান যুগের অন্তর্বর্তী সময়ের। আন্তর্জাতিক এক গবেষক দলের বিস্তারিত গবেষণায় এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি সামনে এসেছে।
গবেষক দলটি এই নতুন পতঙ্গ প্রজাতির নামকরণ করেছেন ‘চোশা প্রিকursor’ (Chosha praecursor)। প্রাচীন পতঙ্গের বিবর্তনের ইতিহাস এবং তাদের আদি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।
পশ্চিম টেক্সাসের ম্যারাথন আপলিফট এলাকার টেসনাস ফরমেশনের ক্যালকেরিয়াস ক্লেইস্টোন কনক্রিশন বা চুনাপাথরের কাদার স্তরের ভেতরে এই জীবাশ্মগুলো সংরক্ষিত ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এই জীবাশ্মগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করা হয়।
আবিষ্কৃত চোশা প্রিকursor পতঙ্গটির শারীরিক গঠনে বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় ও আদিম বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই পতঙ্গের একটি ডিম পাড়ার নল বা ওভারপোজিশর, একটি প্রান্তীয় ক্যাডাল ফিলামেন্ট, একটি খণ্ডিত ট্রাঙ্ক এবং ছয়টি হাঁটার পা বা লেগ ছিল।
এই আন্তর্জাতিক গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন চেনি ইয়াং কাই এবং এরিক তিহেলকা। তাঁরা এই গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রাচীন পতঙ্গের বিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন।
এই গবেষণার সঙ্গে মূল দুটি বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের নানজিং ইনস্টিটিউট অফ জিওলজি অ্যান্ড প্যালিওন্টোলজি (এনআইজিপিপিএএস) এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
এই গবেষণায় উঠে আসা ৩২৪ মিলিয়ন বছর আগের সময়কাল এবং ৩২০.০৯ মিলিমিটার বা ৪৯.৬৬ মিলিমিটারের মতো বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রাচীন পতঙ্গের গঠন ও তাদের বিবর্তনের সময়রেখা বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করবে। বিশেষ করে ৪০৫ মিলিয়ন বছর আগের সময়কাল এবং প্রায় ৮০ মিলিয়ন বছরের দীর্ঘ ব্যবধানের ফাঁকগুলো পূরণে এই জীবাশ্ম নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।








