ক্রিসমাস দ্বীপে ভেসে এল স্পেসএক্সের রকেট
টেক্সাসে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর ভারত মহাসাগরের ক্রিসমাসের দ্বীপে একটি স্পেসএক্স রকেট ভেসে এসেছে। ৫২ মিটার দীর্ঘ এই রকেটটি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১২ · ১ মিনিট পড়া
টেক্সাসে একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনার পর ভারত মহাসাগরের ক্রিসমাস দ্বীপে স্পেসএক্সের একটি রকেট ভেসে এসেছে। গত ২৪ জুলাই এই ঘটনাটি ঘটে। বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেটটি হঠাৎ করে এমন একটি দ্বীপের উপকূলে চলে আসায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ক্রিসমাস দ্বীপে ভেসে আসা এই রকেটটির দৈর্ঘ্য ৫২ মিটার। বিশাল আকৃতির এই বস্তুটি যে সাধারণ কোনো সামুদ্রিক বা অন্য কোনো মানবনির্মিত বস্তু নয়, বরং একটি নভোযান, তা এর গঠন ও আকৃতি থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। টেক্সাস থেকে ওড়ার পর এটি কীভাবে ভারত মহাসাগরের এই নির্দিষ্ট দ্বীপের কাছে এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা চলছে।
ক্রিসমাস আইল্যান্ড ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার ডেভিড ওয়াটার্ন এই ঘটনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তিনি পুরো বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। রকেটটি পাওয়ার পর তিনি এটিকে স্রেফ একটি সাধারণ বস্তু হিসেবে না দেখে এর ঐতিহাসিক ও প্রযুক্তিগত যাত্রার কথা স্মরণ করেছেন।
ঘটনাটির পর ডেভিড ওয়াটার্ন সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে রকেটটি সম্পর্কে নিজেদের বিস্ময়ের কথা জানান। তিনি বলেন, এটি একটি রকেট, একটি মহাকাশ রকেট। স্পেসএক্সের এই রকেটটির ধ্বংসাবশেষ বা অংশবিশেষ পাওয়ার পর এর অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এটি আসলে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং কী পরিমাণ ধকল সয়ে এখানে এসে পৌঁছেছে, তা ভাবলে সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হয়।
ডেভিড ওয়াটার্ন আরও উল্লেখ করেন যে, এই রকেটটি নিয়ে মানুষের কৌতূহল দিন দিন কেবল বেড়েই চলেছে। তাঁর ভাষায়, আপনি এটি যত বেশি দেখবেন এবং পর্যবেক্ষণ করবেন, এটি ততই আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এর গঠন এবং এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের বা মহাকাশ যাত্রার ছাপ বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে টেক্সাসে চালানো ওই নির্দিষ্ট পরীক্ষাটি থেকে রকেটের এই অংশটি কীভাবে ক্রিসমাস দ্বীপের জলসীমায় এসে পৌঁছাল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। ভারত মহাসাগরের এই দূরবর্তী দ্বীপে এমন একটি আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির নিদর্শন ভেসে আসার ঘটনাটি বেশ বিরল এবং এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও অনেক।
তথ্যসূত্র: BBC Science
আপনার প্রতিক্রিয়া