যশোরে জলাবদ্ধতায় ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি হারানোর গবেষণা প্রকাশ
যশোরের অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি হারানো এবং জমি ও এর নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রক্রিয়ার ওপর একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা এবং এর প্রভাবে ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি ও জমির নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রক্রিয়া নিয়ে একটি নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মুহিবুল ইসলাম এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাটিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে যশোরের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা হিসেবে যশোরের অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলার পাঁচটি গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়। এই অঞ্চলগুলো দীর্ঘকাল ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় জর্জরিত, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আসছে। জলাবদ্ধতা কীভাবে কৃষকদের ভূমিহীন করে তুলছে এবং তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছে, তা এই গবেষণার মূল বিষয়বস্তু ছিল।
গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে। এই তিন মাসব্যাপী মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়। গবেষক দল সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি জানতে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন বা ফোকাস দলভিত্তিক আলোচনা, গভীর সাক্ষাৎকার এবং মাঠপর্যায়ের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণায় জলাবদ্ধতা অঞ্চলের মানুষের জমি হারানোর সুনির্দিষ্ট চারটি পথ বা কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো উন্নয়ন ও বাজারকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভূমি দখল বা জবরদখলকে। এছাড়া বিভিন্ন চুক্তিপত্র বা সমঝোতার মাধ্যমে প্রতারণা এবং জমির নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।
চতুর্থ এবং অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সংকটের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে জমি হারানোর বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে যখন কৃষকরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন, তখন টিকে থাকার তাগিদে তাদের অনেককেই নিজেদের জমি হারাতে হয়।
গবেষণায় স্থানীয় অবকাঠামোগত ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের নানা দিকও উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে একটি ইপিজেড বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৫০২ দশমিক ৬১ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব নানামুখী প্রক্রিয়া ও স্থানীয় বাস্তবতার আলোকেই মূলত ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি ও জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর সামগ্রিক চিত্রটি এই গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।








