চবি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি অর্জন বাড়ছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক বৃত্তি নিয়ে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১২৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশই নারী শিক্ষার্থী।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছর বৃত্তিসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন ১২৬ জন শিক্ষার্থী। অথচ ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশের বাইরে পড়তে গিয়েছিলেন মাত্র ২৪ জন। সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের নির্দেশ করে।
বিদেশগামী এসব শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ পাড়ি জমাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী। অথচ ২০১৯ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন মাত্র ৫ জন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য গমন করছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন চবির শিক্ষার্থীরা, যার মধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক ও ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি অর্জনের এই অগ্রযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। বৃত্তি পেয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া এসব শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৫ শতাংশই নারী। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে খাদিজা মিতু জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আগের তুলনায় নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধাগুলো কিছুটা কমেছে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল–সংক্রান্ত বিষয়ের শিক্ষার্থীরা সংখ্যায় প্রায় ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে জিনপ্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছেন, যাদের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়ে প্রতিবছর গড়ে এক-দুজন শিক্ষার্থী বিদেশে যেতেন, আর এখন এই সংখ্যাটা ১০-এর বেশি।
শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বিভিন্ন সহায়ক পরিবেশ ও দিকনির্দেশনা। এই বিষয়ে দিদারুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় অনেক সহজে তথ্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডিজ সোসাইটি (সিইউআরএইচএস) ও অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো গবেষণাবান্ধব সংগঠন আইইএলটিএস, জিআরই, গবেষণা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করছে। ফলে উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আরও সহজে ও বিস্তৃতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সংস্কৃতি পরিবর্তনে এক ধরনের বিপ্লব প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সামগ্রिक গবেষণার পরিবেশেও এসেছে গতি। ২০২৫ সালে স্কোপাসে অন্তর্ভুক্ত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ৬১৫টি। এর আগে ২০২৪ সালে স্কোপাসে অন্তর্ভুক্ত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ছিল ৫৯৪ এবং ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১১৬। গবেষণার প্রতি এই আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী তানভীর আহম্মদ বলেন, গত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণা সেলের প্রকল্প, বিভিন্ন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ, তরুণ শিক্ষকদের গবেষণা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ভাতা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভর্তুকি হিসেবে কাজ করছে।
উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার এই অগ্রযাত্রায় মিশকাতুল মমতাজ, শাহ্ জুলকার নাঈন ও নীলা রাখাইনদের মতো শিক্ষার্থীরাও নানাভাবে যুক্ত রয়েছেন। সামগ্রिक এই চিত্র প্রমাণ করে যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছেন এবং বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে নিজেদের সাফল্যের পরিধি বিস্তার করছেন।








